বৈদ্যুতিক বাইকের ব্যাটারি বারবার নষ্ট হওয়া বা চার্জ ধরে রাখতে না পারার সমস্যাটি অনেক ব্যবহারকারীর জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। বাইক স্টার্ট দিতে গিয়ে ব্যাটারি ডেড বা অকেজো হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে অনেকেই দ্রুত ব্যাটারি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। তবে প্রযুক্তিবিদদের মতে, সবসময় ব্যাটারিই যে সমস্যার মূল কারণ, তা নয়।
বাইকের সামগ্রিক বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় ছোটখাটো ত্রুটি থাকলেও নতুন ব্যাটারি দ্রুত দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই বারবার ব্যাটারি পরিবর্তনের আগে বাইকের ইলেকট্রিক সিস্টেমের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। প্রথমত, বাইকের ইগনিশন বা চাবি অন রাখা ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক সময় অল্প সময়ের জন্য বাইক থামিয়ে চাবি অন রেখেই চালক নেমে যান।
ইঞ্জিন বন্ধ থাকলেও হেডলাইট, মিটার, ইন্ডিকেটর বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক অংশ বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে থাকে। এভাবে দীর্ঘ সময় বাইক ফেলে রাখলে ব্যাটারির চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং এর কার্যক্ষমতা স্থায়ীভাবে হ্রাস পায়। তাই বাইক পার্ক করার পর চাবি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
দ্বিতীয়ত, প্যারাসাইটিক ড্রেইন বা লিকেজ জনিত সমস্যার দিকে নজর দিতে হবে। বাইক বন্ধ থাকার পরও যদি কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র বা ত্রুটিপূর্ণ তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খরচ হতে থাকে, তবে তাকে প্যারাসাইটিক ড্রেইন বলা হয়। ভুলভাবে লাগানো অতিরিক্ত কোনো অ্যাকসেসরি, ক্ষতিগ্রস্ত ওয়্যারিং বা বৈদ্যুতিক লিকেজের কারণে এমন সমস্যা হতে পারে।
বিশেষ করে কয়েক দিন বাইক ব্যবহার না করার পর যদি ব্যাটারি ডেড হয়ে যায়, তবে শুধু ব্যাটারি বদলানোর বদলে পুরো ইলেকট্রিক সিস্টেম পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। কারণ মূল সমস্যা সমাধান না করলে নতুন ব্যাটারিও একইভাবে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে। তৃতীয়ত, রেগুলেটর-রেকটিফায়ার বা স্টেটরের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা আবশ্যক।
বাইকের ইঞ্জিন চালু থাকার সময় অল্টারনেটর বা স্টেটর বিদ্যুৎ তৈরি করে এবং রেগুলেটর-রেকটিফায়ার সেই বিদ্যুৎকে ব্যাটারি চার্জের উপযোগী করে তোলে। এই ব্যবস্থার কোনো অংশে সমস্যা হলে ব্যাটারি প্রয়োজনমতো চার্জ পায় না অথবা অতিরিক্ত ভোল্টেজের কারণে ওভারচার্জ হতে পারে। উভয় পরিস্থিতিই ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দেয়। হেডলাইট অস্বাভাবিকভাবে ম্লান হওয়া বা ইন্ডিকেটরের আলো কাঁপার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে চার্জিং সিস্টেমে সমস্যা রয়েছে।
চতুর্থত, ফিউজের সমস্যার প্রতি অবহেলা করা উচিত নয়। বাইকের বৈদ্যুতিক সার্কিটকে সুরক্ষিত রাখতে ফিউজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফিউজ বা সংশ্লিষ্ট সার্কিটে সমস্যা হলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অস্বাভাবিকতা তৈরি হতে পারে, যা চার্জিং সিস্টেমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফিউজ নষ্ট হলেই যে ব্যাটারি খারাপ হয়ে গেছে, এমনটা ধরে নেওয়া ভুল।
কেন ফিউজ বারবার নষ্ট হচ্ছে, সেই কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। পরিশেষে, বাইক স্টার্ট না নিলে তাড়াহুড়ো করে নতুন ব্যাটারি না কিনে চার্জিং সিস্টেম, স্টেটর, রেগুলেটর-রেকটিফায়ার, ফিউজ এবং ওয়্যারিং পরীক্ষা করানো বুদ্ধিমানের কাজ। সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে নিয়মিত সার্ভিসিং নিশ্চিত করতে পারলে ব্যাটারির আয়ু দীর্ঘ করা সম্ভব এবং অকারণে বারবার অর্থ ব্যয় রোধ করা যায়।
