নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার ১৯ আগস্ট বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। আটককৃত শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বয়স ২১ বছর। তিনি স্থানীয় একটি প্রি-ক্যাডেট মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন এবং ভুক্তভোগী শিশুটিও একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক এবং ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকায় বসবাস করেন। ঘটনার দিন বিকেলে ভুক্তভোগী শিশুটি নিজের বাসার সামনে খেলাধুলা করছিল। সেই সময় অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সেখানে উপস্থিত হন। এরপর তিনি বিভিন্ন কৌশলে শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে একটি ঘরে নিয়ে যান।
সেই ঘরেই শিশুটিকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে তার মাকে বিষয়টি বিস্তারিত জানায়। শিশুটির কাছ থেকে ঘটনা শোনার পর তার মা দ্রুত বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে আটক করে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বলাৎকারের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ওই মাদরাসায় কর্মরত ছিলেন এবং শিশুটির সঙ্গে তার পরিচিতি ছিল। ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে এবং শিশুটির জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে থানা সূত্রে জানানো হয়েছে।
এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সচেতন মহল। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পুলিশ দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। ঘটনার পর থেকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলা হবে। মামলার এজাহার দায়ের হওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষক পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। মামলার প্রক্রিয়া শেষ হলে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
