বাংলাদেশি সংগীত পরিচালক ও প্রযোজক শাহরিয়ার আহমেদ সাজ ২০২৭ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়নের জন্য তার নতুন বাদ্যযন্ত্রনির্ভর গান ‘অ্যাঞ্জেলস শাওয়ার’ জমা দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের মতো বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সংগীত পুরস্কারের আসরে নিজের সৃষ্টি তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
সংগীত পরিচালক সাজের জন্য গ্র্যামির মনোনয়নের দৌড়ে এটি প্রথম অভিজ্ঞতা নয়। এর আগে ২০২১ সালেও তার সুর করা ‘ডেথ অ্যাঞ্জেল’ শিরোনামের গানটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়নের জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নতুন গান নিয়ে তিনি পুনরায় এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। সাজের সংগীত জীবনের পথচলা বেশ দীর্ঘ।
২০১২ সালে অস্কারজয়ী ভারতীয় সুরকার এ আর রহমানের সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেএমএমসি বাংলাদেশে চালুর ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়া তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেমা ‘মৃত্তিকা মায়া’-তে সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই কাজের অভিজ্ঞতা সংগীত অঙ্গনে তাকে একটি শক্ত ভিত্তি প্রদান করেছে। বর্তমানে সাজ নিউইয়র্কে বসবাস করছেন।
সেখানে তিনি ব্যবসার পাশাপাশি নিয়মিত সংগীতচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের সৃষ্টিশীল কাজের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। তার এই নিরলস প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই তিনি নতুন এই গানটি গ্র্যামির জন্য প্রস্তুত করেছেন। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সংগীত প্ল্যাটফর্ম ‘আমেরিকা’স হিটমেকার’-এর শীর্ষ পাঁচ শিল্পীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।
এই অর্জন তার সংগীত ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে তার এই ধারাবাহিক সাফল্য বাংলাদেশের সংগীতশিল্পীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন প্রক্রিয়া অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার সংগীতশিল্পী ও প্রযোজক তাদের কাজ জমা দেন।
সেই প্রতিযোগিতার ভিড়ে নিজের কাজকে তুলে ধরা এবং বিচারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সাজের নতুন গান ‘অ্যাঞ্জেলস শাওয়ার’ বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এই ধরনের কাজ আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়, তা এখন দেখার বিষয়। সাজের এই যাত্রা কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সংগীতকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি প্রয়াস।
সংগীত পরিচালক হিসেবে তিনি যে দক্ষতা ও সৃজনশীলতা প্রদর্শন করেছেন, তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার করা হবে। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হলে তা বাংলাদেশের সংগীত ইতিহাসের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে গণ্য হবে। বর্তমানে তিনি তার নতুন গানের প্রচার এবং পরবর্তী সংগীত প্রকল্পের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আন্তর্জাতিক সংগীত বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, তা তরুণ সংগীত পরিচালকদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। সাজের এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বসংগীতের মূলধারায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার এই প্রচেষ্টা সফল হলে তা বাংলাদেশের সংগীতশিল্পের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি বয়ে আনবে।
সংগীতের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে নিজের অবস্থান তৈরির জন্য তিনি যে পরিশ্রম করছেন, তার প্রতিফলন ঘটছে তার সাম্প্রতিক কাজগুলোতে। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে সাজ এখন তার গানের চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিকে মনোনিবেশ করেছেন।
