১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার সন্ধ্যায় সারাদেশে বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে ৫২৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় পিক আওয়ার বা সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ব্যবহারের সময়ে সারাদেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২১১ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ঘাটতি দেখা দেয়।
পিজিসিবি জানিয়েছে, চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব হলেও ঘাটতির কারণে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে লোডশেডিং দিতে হয়েছে। জোনভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, ময়মনসিংহে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল সবচেয়ে বেশি। এই অঞ্চলে এক হাজার ৪২১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২৫৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। এছাড়া ঢাকা জোনে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি, যেখানে ছয় হাজার ১৮৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৫৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে।
কুমিল্লা জোনে এক হাজার ৪৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৫০ মেগাওয়াট, খুলনা জোনে এক হাজার ৯২৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৯ মেগাওয়াট এবং রাজশাহী জোনে এক হাজার ৫৩৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক ছিল। চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও রংপুর জোনে পিক আওয়ারে কোনো লোডশেডিং দিতে হয়নি।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম জোনে এক হাজার ৫১২ মেগাওয়াট, সিলেটে ৬৬৮ মেগাওয়াট, বরিশালে ৪৮১ মেগাওয়াট এবং রংপুর জোনে এক হাজার ৩৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের এই পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। সামগ্রিকভাবে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলমান থাকলেও পিক আওয়ারের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
বিশেষ করে গরমের মৌসুমে বা বিশেষ সময়ে যখন বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়, তখন গ্রিড ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। পিজিসিবি তাদের দৈনিক প্রতিবেদনে এই লোডশেডিংয়ের চিত্র তুলে ধরেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা এবং জ্বালানি সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে প্রতিদিনের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিকল্পনা করা হয়।
তবে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হলে বা সঞ্চালন লাইনে কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিভাগ বিভিন্ন জোনের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করছে যাতে কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে না হয়। ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হওয়ার কারণ হিসেবে ওই অঞ্চলের স্থানীয় গ্রিড বা সঞ্চালন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঢাকা জোনে চাহিদার তুলনায় লোডশেডিংয়ের হার তুলনামূলক কম হলেও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এর প্রভাব বেশি অনুভূত হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, তারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কাজ করে যাচ্ছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রাকৃতিক কারণ বা কারিগরি ত্রুটির কারণে অনেক সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে পিক আওয়ারে চাপের পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হয়। দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে পিজিসিবি এবং প্রতিদিনের চাহিদা ও সরবরাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
