আগামী বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালের পর থেকে দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি নিয়মিত চর্চায় ছিল না, ফলে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের জন্য এটি একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা। তবে আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সব ধরনের অনুশীলন সম্পন্ন করা হয়েছে যাতে প্রক্রিয়ায় কোনো ঘাটতি না থাকে। নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, জাতীয় সংসদের বর্তমান অধিবেশন চলমান না থাকলেও আইনের বিধান অনুযায়ী নির্বাচনের জন্য একটি বিশেষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
এই বৈঠকে সংসদ সদস্যরা তাদের ভোট প্রদান করবেন। ভোটার তালিকায় ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের নাম রয়েছে, যার মধ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার এবং বিরোধীদলীয় নেতাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভোটগ্রহণের শুরুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
এরপর বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হলে পুনরায় সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে ভোট গণনা শুরু হবে। সংসদ সদস্যরা ভোট প্রদানের পর সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন এবং গণনা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, ভোট গণনা শেষে প্রতিটি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা, বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা এবং বিজয়ী প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
এরপর নির্বাচন কমিশন থেকে গেজেট প্রকাশ করা হবে। এদিকে বুধবার জাতীয় সংসদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভোটের মাধ্যমেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন এবং দেশের মানুষ এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করবে। চিফ হুইপ জানান, নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণ করবেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন ও সংগ্রামের পর গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার গঠন করেছে। বর্তমান সরকার দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং দেশের অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। সরকার ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করার মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুসংহত করতে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হবে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভোটারদের তালিকায় থাকা ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের রায়ের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম। নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করেছে যে, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
