জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কনসার্ট সফরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই সফরের অংশ হিসেবে তিনি গত ৫ সেপ্টেম্বর নিজের জন্মদিনটি পরিবার থেকে দূরে অতিবাহিত করেছেন। বিশেষ এই দিনে পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্য না পাওয়ার বিষয়টি তার জন্য বেশ কষ্টদায়ক ছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। বিশেষ করে নিজের ছোট্ট মেয়ে ইনায়াকে কাছে না পাওয়ার আক্ষেপ তিনি প্রকাশ করেছেন।
ইমরান মাহমুদুল জানান, পরিবার ও প্রিয়জনদের ছেড়ে দূরে থেকে জন্মদিন পালন করা মোটেও সহজ কোনো বিষয় নয়। বিশেষ করে নিজের সন্তানের অনুপস্থিতি তাকে মানসিকভাবে বেশ আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। তবে পরিবার থেকে দূরে থাকলেও ভক্ত, সহশিল্পী এবং প্রবাসীদের ভালোবাসায় তার জন্মদিনটি স্মরণীয় হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডোতে আয়োজিত ফোবানা কনভেনশনের একটি অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি তার বিশেষ দিনটি উদযাপন করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে ইমরান লিখেছেন, পরিবার থেকে দূরে থেকে জন্মদিন কাটানোটা সহজ নয়। বিশেষ করে তার ছোট্ট মেয়ে ইনায়াকে ছেড়ে এত দূরে বসে থাকতে তার কষ্ট হচ্ছে। তবে ভক্তদের ভালোবাসা, সারপ্রাইজ এবং শুভকামনা সেই কষ্ট অনেকটা লাঘব করেছে। ইমরানের জন্য এবারের জন্মদিনটি আরও বিশেষ হওয়ার পেছনে একটি কারণ রয়েছে।
এই জন্মদিনের সঙ্গেই তার মেয়েকে পাওয়ার সুন্দর স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। তাই বিশেষ দিনটিতে মেয়েকে কাছে না পাওয়ার আক্ষেপ তার মধ্যে কিছুটা বেশি কাজ করেছে। প্রবাসে অবস্থান করলেও তিনি সহশিল্পী ও আয়োজকদের কাছ থেকে নানা ধরনের সারপ্রাইজ পেয়েছেন। নিজের ব্যান্ডের সদস্যদের পাশাপাশি সংগীতশিল্পী কণা, জায়েদ খান, সুরকার ইমন সাহা, নির্মাতা এস এ অলক এবং ফোবানা আয়োজকদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
দেশের ভক্ত ও বন্ধুদের শুভেচ্ছার জবাব দিতে গিয়ে ইমরান জানান, কনসার্টের ব্যস্ত শিডিউলের মধ্যেও সবার ভালোবাসা তার কাছে পৌঁছেছে। একসঙ্গে সবার বার্তার উত্তর দেওয়া সম্ভব না হলেও প্রতিটি শুভেচ্ছা তিনি আন্তরিকভাবে অনুভব করেছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তিনি একাধিক কনসার্টে অংশ নিচ্ছেন। ব্যস্ত সফরসূচির মধ্যেও ভক্তদের ভালোবাসা ও শুভকামনাই তাকে আনন্দিত করছে বলে জানিয়েছেন এই শিল্পী।
তার এই সফরসূচি শেষ করে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা। সংগীতশিল্পী হিসেবে ইমরান মাহমুদুল দীর্ঘ সময় ধরে শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে আসছেন। তার এই সফর এবং কনসার্টগুলোতে প্রবাসীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ব্যক্তিগত জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তটি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে তিনি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
পরিবারের প্রতি তার এই টান এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি তার ভক্তদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। কনসার্টের ব্যস্ততা এবং ব্যক্তিগত আবেগ—সব মিলিয়ে এবারের জন্মদিনটি ইমরানের জীবনে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি জানিয়েছেন যে, এই অভিজ্ঞতা তার সংগীত ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালীন প্রতিটি মুহূর্ত তিনি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন এবং কনসার্টে শ্রোতাদের গান শুনিয়ে মুগ্ধ করছেন। তার এই সফর সফলভাবে শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
