ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও এভারটন ২-২ গোলে ড্র করেছে। হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে এভারটনের হয়ে ইনজুরি সময়ে গোল করে সমতা ফেরান এইনসলি মেইটল্যান্ড-নাইলস। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ মাইকেল ক্যারিকের দল এই ম্যাচে জয় পাওয়ার কাছাকাছি থাকলেও শেষ মুহূর্তে গোল হজম করায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের শট গোলপোস্টে আঘাত করলে ইউনাইটেড এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায়। এটি ছিল গত মৌসুম থেকে প্রিমিয়ার লিগে ইউনাইটেডের ২৪তম বার গোলপোস্টে বল লাগার ঘটনা। প্রথমার্ধে মার্কাস রাশফোর্ড এভারটনের রক্ষণভাগের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি করেন।
অন্যদিকে এভারটন তাদের মূল খেলোয়াড় ইলিম্যান এনদাইয়িকে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে বিক্রি করার পর আক্রমণভাগে কিছুটা ধীরগতির ছিল। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে থierno ব্যারি এবং জ্যারড ব্রানথওয়েট গোল করার সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এগিয়ে যায়। কোবি মাইনুর কাছ থেকে বল পেয়ে ব্রায়ান এমবেউমো চমৎকার শটে গোল করেন।
এর কিছুক্ষণ পর এভারটনের কোচ ডেভিড ময়েস জ্যাক গ্রিলিশ এবং হেইডেন হ্যাকনিকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামান। হ্যাকনির সহায়তায় টাইরিক জর্জ গোল করে এভারটনকে সমতায় ফেরান। এরপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। লুক শয়ের ক্রস থেকে বেঞ্জামিন সেসকো হেড দিয়ে গোল করলে ইউনাইটেড ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
মনে হচ্ছিল ইউনাইটেড জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে, কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এইনসলি মেইটল্যান্ড-নাইলস গোল করে এভারটনের হার নিশ্চিতভাবে রুখে দেন। এটি ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের পর প্রিমিয়ার লিগে মেইটল্যান্ড-নাইলসের প্রথম গোল। এই ড্রয়ের ফলে এভারটন তাদের মৌসুমে অপরাজিত থাকার ধারা বজায় রেখেছে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাদের প্রথম অ্যাওয়ে জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করল।
ম্যাচটিতে উভয় দলের খেলোয়াড়রাই জয়ের জন্য লড়াই করেছেন। এভারটনের কোচ ডেভিড ময়েস এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ মাইকেল ক্যারিক উভয়ই তাদের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন। ম্যাচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বল দখলে এগিয়ে থাকলেও এভারটন শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে। বিশেষ করে বদলি খেলোয়াড়দের মাঠে নামানোর পর এভারটনের খেলার গতি বৃদ্ধি পায়।
টাইরিক জর্জের গোল এবং মেইটল্যান্ড-নাইলসের শেষ মুহূর্তের গোল এভারটনকে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট এনে দেয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ব্রায়ান এমবেউমো এবং বেঞ্জামিন সেসকো গোল করলেও রক্ষণভাগের দুর্বলতায় জয় পাওয়া সম্ভব হয়নি। প্রিমিয়ার লিগের এই মৌসুমে উভয় দলের জন্যই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল। এভারটন তাদের ঘরের মাঠে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখতে পেরেছে, যা তাদের সমর্থকদের জন্য স্বস্তির বিষয়।
অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাদের আক্রমণভাগের দক্ষতা দেখালেও রক্ষণভাগে আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন ছিল। ম্যাচ শেষে উভয় দলের কোচই তাদের খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় এই ড্রয়ের প্রভাব পড়বে। আগামী ম্যাচগুলোতে উভয় দলই তাদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং এভারটনের এই লড়াই প্রিমিয়ার লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রকৃতিরই প্রতিফলন।
