দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রমে দ্বিতীয় চারদিনের ম্যাচে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের এটিই প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি। এই অনন্য অর্জনের পেছনের গল্প এবং নিজের ব্যাটিং কৌশলের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন তিনি। তাওহীদ হৃদয় জানান, ইনিংসের শুরুতে ট্রিপল সেঞ্চুরি তো দূরের কথা, সেঞ্চুরি করার বিষয়টিও তার মাথায় ছিল না।
ম্যাচের শুরুতে দল কিছুটা চাপে ছিল এবং সেই পরিস্থিতিতে বড় কোনো ইনিংস খেলার পরিকল্পনা ছিল না। তবে নিজের ইনিংসের শুরুটা তিনি আক্রমণাত্মক মেজাজে করেছিলেন। মাত্র ৪০ বলে তিনি নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। শুরুর দিকে দক্ষিণ আফ্রিকান বোলাররা আধিপত্য বিস্তার করলেও, ফিফটি হওয়ার পর তিনি নিজের খেলার ছন্দ পরিবর্তন করেন।
এরপর থেকে তিনি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নিয়ে সিলি মিস্টেক বা ভুল শট খেলা থেকে বিরত থাকেন। প্রথম দিন শেষে তিনি ৭৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় দিন সকালে দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের বোলাররা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন, যা তার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।
তবে একাগ্রতা বজায় রেখে তিনি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। সেঞ্চুরির পরও ডাবল বা ট্রিপল সেঞ্চুরির লক্ষ্য ছিল না, বরং সারাদিন উইকেটে টিকে থাকাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। রিস্কমুক্ত ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে তিনি ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছান। ডাবল সেঞ্চুরির পর ট্রিপল সেঞ্চুরির চিন্তা মাথায় আসার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, আড়াইশো রান অতিক্রম করার পর ২৭০ রানের ঘরে গিয়ে তিনি ট্রিপল সেঞ্চুরির কথা ভাবতে শুরু করেন।
দলের আটটি উইকেট পড়ে যাওয়ার পর পেস বোলার রেজাউর রহমান রাজার সহযোগিতা তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রাজা ১০ নম্বর ব্যাটার হিসেবে নেমে ১১০ বল খেলে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন। হৃদয় মনে করেন, রাজার এই দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থাকা তার ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার ক্ষেত্রে টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হৃদয় তার ইনিংসে মোট ১০টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। ডাবল সেঞ্চুরির পর তিনি কেন বেশি ছক্কা মেরেছেন, তার ব্যাখ্যায় তিনি জানান, দুইশ রানের পর দক্ষিণ আফ্রিকান ফিল্ডাররা মাঠের সীমানার চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফিল্ডিং সাজান। নয়জন ফিল্ডার সীমানার কাছাকাছি থাকায় চার মারা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই বাধ্য হয়েই তিনি ফিল্ডারদের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকানোর কৌশল অবলম্বন করেন।
তবে ২৭০ রান পার করার পর তিনি পুনরায় সতর্ক হয়ে যান। তখন কিপার ও বোলার ছাড়া বাকি নয়জন ফিল্ডারই সীমানার কাছে থাকায় তিনি আর বড় শট খেলার ঝুঁকি নেননি। শেষ পর্যায়ে তিনি বাউন্ডারি এবং ফিল্ডারদের অবস্থান বুঝে সিঙ্গেল, ডাবল এবং তিন রান নিয়ে সতর্কতার সাথে ব্যাটিং করে ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
