দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত চারদিনের আন-অফিশিয়াল টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন তাওহীদ হৃদয়। পচেফস্ট্রমে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন-অফিশিয়াল টেস্টে তার ট্রিপল সেঞ্চুরি ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে এই ড্রয়ের পেছনে হৃদয়ের ধৈর্যশীল ও অতিমানবীয় ব্যাটিং বড় ভূমিকা রেখেছে।
নিজের এই সাফল্যের পেছনে জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের বিশেষ অবদান ও পরামর্শের কথা জানিয়েছেন হৃদয়। তিনি জানান, সিরিজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুশফিকুর রহিম নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং তাকে মানসিকভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন। হৃদয় বলেন, মুশফিকুর রহিম তাকে বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ব্যক্তিগত অর্জনে খুশি হওয়ার কিছু নেই।
তার মূল কাজ হলো ক্রিজে টিকে থেকে রান করা। মুশফিকুর রহিমের পরামর্শ ছিল, যতটা সম্ভব সময় উইকেটে থেকে দলের জন্য রান সংগ্রহ করা। হৃদয় জানান, মুশফিকুর রহিম তার আইডল এবং তার একাগ্রতা ও নিষ্ঠা তাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। এই ধরনের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের দিকনির্দেশনা তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
পচেফস্ট্রমের উইকেট সম্পর্কে হৃদয় জানান, উইকেটটি মূলত ফ্ল্যাট হলেও সেখানে বলের মুভমেন্ট ও টার্ন ছিল। পেসারদের কিছু বল স্কিড করছিল এবং স্পিনাররাও উইকেট থেকে সহায়তা পাচ্ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বোলিং আক্রমণ বেশ শক্তিশালী ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রোটিয়া ‘এ’ দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় নিয়মিত ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেট খেলেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।
তাদের দলে জাতীয় দলের হয়ে খেলা কোয়ের্ৎজিও ছিলেন। তাদের ব্যাটিং কৌশল ও বোলিংয়ের ধরন থেকে অনেক কিছু শেখার আছে বলে হৃদয় মন্তব্য করেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ জাতীয় দল যদি এই প্রোটিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলে, তবে তা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে হৃদয় বলেন, তিনি দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা না করে বরং বর্তমানের ওপর মনোযোগ দিতে পছন্দ করেন।
লাল বলের ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেলে তিনি প্রস্তুত আছেন এবং পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে যেকোনো ফরম্যাটে খেলতে তিনি আগ্রহী। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটকে একজন ক্রিকেটারের মান উন্নয়নের সেরা মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। আড়াই দিন ধরে ব্যাট করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ক্রিকেট খেলার প্রকৃত শিক্ষা দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ থেকেই পাওয়া সম্ভব।
নিজের ব্যাটিংয়ের প্রতিটি পর্যায় ও কৌশল তিনি এই ম্যাচ থেকে ঝালিয়ে নিয়েছেন। জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ ও নির্বাচকদের কাছ থেকেও তিনি অভিনন্দন পেয়েছেন বলে জানান। তবে মুশফিকুর রহিমের ব্যক্তিগত উৎসাহ তাকে অন্যরকম অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে দলের প্রয়োজনে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াই তার লক্ষ্য।
পচেফস্ট্রমের এই সফর তার ক্যারিয়ারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে এমন ধৈর্যশীল ব্যাটিং প্রদর্শন করে তিনি নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে লাল বলের ক্রিকেটে নিয়মিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও তিনি বর্তমানে নিজের পারফরম্যান্সের উন্নতির দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন।
তার এই ট্রিপল সেঞ্চুরি কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দলের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিরিজের পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য তিনি নিজেকে প্রস্তুত করছেন এবং মুশফিকুর রহিমের দেওয়া পরামর্শগুলো মেনে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
