চীনের মকিতে চলমান জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে বাংলাদেশ নারী দল পাকিস্তানকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে। রবিবার অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রেখে খেলে এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বারবার পরাস্ত করে। এই জয়ে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মেয়েরা তাদের ধারাবাহিক সাফল্যের ধারা বজায় রাখল।
ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে গোলগুলো করেছেন লনিমা নুপুর, নাদিরা এমা, শারিকা রিমন, কনা আক্তার এবং আইরিন আক্তার রিয়া। প্রতিটি খেলোয়াড়ই ব্যক্তিগত নৈপুণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে দলের এই বড় জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এর আগে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ নারী দল চাইনিজ তাইপেকে ৭ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছিল।
টানা দুই জয়ে বাংলাদেশ নারী দলের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে মেয়েদের বিভাগে মোট ১০টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। বাংলাদেশ খেলছে চ্যালেঞ্জ পুলে। এই পুলে বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হলো হংকং এবং কাজাখস্তান। টুর্নামেন্টের পরবর্তী সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ নারী দল আগামী ৮ সেপ্টেম্বর কাজাখস্তানের মুখোমুখি হবে।
এরপর ৯ সেপ্টেম্বর তারা হংকংয়ের বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচটি খেলবে। টুর্নামেন্টের চ্যালেঞ্জ পুলে বাংলাদেশের মেয়েরা যেভাবে পারফর্ম করছে, তাতে পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, একই টুর্নামেন্টে পুরুষ বিভাগে বাংলাদেশ দল কিছুটা ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুরুষ বিভাগে বাংলাদেশ দল এখন পর্যন্ত জয়ের দেখা পায়নি।
চীনের কাছে হারের পর রবিবার মালয়েশিয়ার কাছেও পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ দল। পুরুষ বিভাগে বাংলাদেশ খেলছে ‘বি’ গ্রুপে। গ্রুপ পর্বে তাদের আরও দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে, যেখানে তারা পাকিস্তান ও কাজাখস্তানের মুখোমুখি হবে। জুনিয়র এশিয়া কাপ হকি থেকে পুরুষ বিভাগে ভালো ফলাফল করলে জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাই পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয় পাওয়া বাংলাদেশ পুরুষ দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা এখন সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির এই আসরটি এশিয়ান হকির ভবিষ্যৎ তারকাদের খুঁজে বের করার একটি বড় মঞ্চ। এখানে প্রতিটি দলের পারফরম্যান্স তাদের আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং এবং অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করছে।
বাংলাদেশের মেয়েরা যেভাবে মাঠের খেলায় নিজেদের দক্ষতা ও দলীয় সমন্বয়ের পরিচয় দিচ্ছে, তা হকির উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ম্যাচই পয়েন্ট টেবিলের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ নারী দল তাদের বর্তমান ছন্দ ধরে রাখতে পারলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করবে।
অন্যদিকে, পুরুষ দল তাদের বাকি ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। হকির এই টুর্নামেন্টটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে উৎসাহের সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে নারী দলের এই ধারাবাহিক সাফল্য তরুণ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করছে। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতেও বাংলাদেশ দল তাদের সেরাটা দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাঠের লড়াইয়ে কৌশলগত পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ফর্মের ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের চূড়ান্ত সাফল্য।
