আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রোববার এক আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ১৯৯৯ সালের পর গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলের অনুপস্থিতি নিয়ে এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
গত মার্চ মাসে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মূলত বিশ্বকাপে না খেলার পেছনে প্রকৃত নিরাপত্তা শঙ্কা ছিল নাকি অন্য কোনো কারণ বিদ্যমান ছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এ কে এম অলি উল্যা।
তার সঙ্গে কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ক্রীড়া সংগঠক ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর। গত চার মাসেরও বেশি সময় ধরে এই তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদন প্রকাশের বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, তদন্ত কমিটির প্রধান বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার পরপরই আগামী সপ্তাহে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইনশাআল্লাহ আপনারা এই তদন্ত প্রতিবেদনটি পেয়ে যাবেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
সে সময় মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির বিষয়টি সামনে আসে। এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ না খেলার ঘোষণা দেয়। তৎকালীন বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের জন্য আইসিসির কাছে আবেদন জানিয়েছিল। তবে আইসিসি সেই অনুরোধে সাড়া না দেওয়ায় বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে যায়।
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঠিক চিত্র তুলে ধরার লক্ষ্যেই সরকার এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। এখন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণগুলো স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তাদের চূড়ান্ত মতামত প্রদান করবেন। এই প্রতিবেদনটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেট কূটনীতি এবং বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য এবং ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, আগামী সপ্তাহে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর তাতে কী কী সুপারিশ বা পর্যবেক্ষণ উঠে আসে।
