২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে চার শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কোটার সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ১১টি শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই বিশেষ কোটার আওতায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, প্রবাসীদের সন্তান, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে জাতীয় বা বিভাগীয় পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে ম্যানুয়ালি বা সরাসরি আবেদনের মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ পাবে। এছাড়া প্রবাসীদের সন্তান, বিকেএসপি থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা শিক্ষার্থীরাও একইভাবে বোর্ডে ম্যানুয়ালি আবেদন করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলো আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করবে। এই বিশেষ কোটার আওতায় ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম জিপিএ বা গ্রেড পয়েন্ট শিথিলযোগ্য হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, বিশেষ কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো কঠোর জিপিএ শর্ত প্রযোজ্য নাও হতে পারে, যদি বোর্ড কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে ভর্তির অনুমোদন দেয়।
এদিকে, ২০২৬ সালের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে ৯৩ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এই ৯৩ শতাংশ আসনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। অবশিষ্ট ৭ শতাংশ আসন বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
এই ৭ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশ আসন মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিদের জন্য এবং ২ শতাংশ আসন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলো জানিয়েছে, মেধা কোটা এবং সংরক্ষিত কোটার বাইরে এই বিশেষ চার শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে বোর্ডগুলো সরাসরি তদারকি করবে।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসহ আবেদন করতে হবে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই বিশেষ কোটার উদ্দেশ্য হলো মেধাবী এবং বিশেষ পরিস্থিতির শিকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।
একইভাবে, বিকেএসপি থেকে আসা ক্রীড়াবিদ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখা শিক্ষার্থীদের মেধার পাশাপাশি তাদের বিশেষ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীদের সন্তানদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নমনীয়তা বজায় রাখা হবে যাতে তারা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সহজে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলো এখন এই ভর্তি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বোর্ডে যোগাযোগ করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ কোটা ব্যবস্থা কার্যকর করার মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। ভর্তি সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতা নিরসনে বোর্ডগুলো সরাসরি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে।
