বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ দ্রুততম সময়ে সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। রবিবার সকালে তিনি আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং সেবার মান উন্নত করার লক্ষ্যে তিনি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জেদ্দা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা একটি ফ্লাইটের ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি উড়োজাহাজ অবতরণের পর কার্গো হোল্ড খোলা থেকে শুরু করে যাত্রীদের হাতে লাগেজ পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করেন। মন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনার সময় কমিয়ে আনা বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি উড়োজাহাজ অবতরণের পর প্যাসেঞ্জার গেট এবং কার্গো হোল্ড খোলার সময়ের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এছাড়া কোনো ফ্লাইট বিমানবন্দরে অবতরণের আগেই গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে নিয়োজিত কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে এবং সঠিক সময়ে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি। যাত্রীদের সেবায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য মন্ত্রী ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য প্রদর্শনের লক্ষ্যে বিমানবন্দরে লাইভ মনিটরিং স্ক্রিন স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন।
এর মাধ্যমে যাত্রীরা তাদের লাগেজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবেন, যা সেবার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন। ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের পাশাপাশি মন্ত্রী বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিমানবন্দরের বিভিন্ন ওয়াশরুম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরের পরিবেশ উন্নত রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই পরিদর্শনের সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ বিমান ও বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন প্রতিটি ক্ষেত্রে সেবার মান বজায় রাখা হয় এবং যাত্রীদের কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়।
বিমানবন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে এই নির্দেশনাগুলো কার্যকর করার ওপর তিনি জোর দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও দ্রুত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিমানবন্দরের সেবার মানোন্নয়নে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ ও ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের জন্য একটি উন্নত ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনের ফলে বিমানবন্দরের কর্মীদের মধ্যে কাজের গতি ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে যাত্রীদের লাগেজ প্রাপ্তির সময় আরও কমিয়ে আনার জন্য প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
