জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর তিন দশক অতিক্রান্ত হলেও তার জীবনের শেষ সময়ের ঘটনাগুলো নিয়ে জনমনে কৌতূহল এখনো বিদ্যমান। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ মৃত্যুর ঠিক আগের দিন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন বা এফডিসিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা তথ্য ও বক্তব্য সামনে এসেছে।
ওইদিন এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার ডাবিংয়ের কাজ চলছিল। সেই ডাবিংয়ের সময় সালমান শাহর সঙ্গে চিত্রনায়িকা শাবনূরও উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন স্মৃতিচারণমূলক বর্ণনায় উঠে এসেছে যে, ডাবিংয়ের ফাঁকে সালমান ও শাবনূরের মধ্যে খুনসুটির একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ে সালমান শাহ তার বাবাকে ফোন করে তার স্ত্রী সামিরাকে এফডিসিতে নিয়ে আসার অনুরোধ জানান।
সালমানের বাবার সঙ্গে সামিরা এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে পৌঁছান। ডাবিং রুমে সালমান ও শাবনূরকে একসঙ্গে দেখে সামিরা অসন্তুষ্ট হন বলে বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। সামিরা পরবর্তী সময়ে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, ডাবিং চলাকালীন শাবনূর ও সালমানের ঘনিষ্ঠ কথোপকথন তার ভালো লাগেনি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এফডিসি ত্যাগ করেন।
সামিরার এফডিসি ত্যাগের সময় তার সঙ্গে গাড়িতে সালমান শাহ ও পরিচালক বাদল খন্দকারও ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়িতে সামিরার সঙ্গে সালমানের তেমন কোনো কথা হয়নি এবং পরিচালক বাদল খন্দকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছিলেন। এফডিসির প্রধান ফটকের কাছে পৌঁছালে সালমান শাহ ও বাদল খন্দকার গাড়ি থেকে নেমে যান।
কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থানের পর সালমান শাহ পুনরায় ডাবিং রুমে ফিরে যান, তবে সেদিন আর ডাবিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়নি। রাতের দিকে পরিচালক বাদল খন্দকার সালমান শাহকে নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় পৌঁছে দিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। সালমান শাহর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সামিরাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও আলোচনা তৈরি হয়েছিল।
সামিরা বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন এবং সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে সালমানের পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে তার মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ২০২৫ সালে আদালতের নির্দেশে তার মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের পথ নতুন করে খুলেছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের নিজ বাসায় মাত্র ২৫ বছর বয়সে সালমান শাহ মৃত্যুবরণ করেন।
তার মৃত্যুর তিন দশক পরও সেই দিনের স্মৃতি, নানা প্রশ্ন ও অমীমাংসিত বিতর্ক ভক্তদের আলোচনায় বারবার ফিরে আসে। সালমান শাহর মৃত্যুর আগের দিনের এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। এফডিসির সেই ডাবিং রুমের পরিস্থিতি এবং পরবর্তীতে বাসায় ফিরে যাওয়ার ঘটনাটি সালমানের জীবনের শেষ সময়ের অন্যতম আলোচিত বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
তার অকাল প্রয়াণ ঢালিউডের ইতিহাসে এক বড় শূন্যতা তৈরি করেছিল, যা আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাঝে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা এখনো চলমান রয়েছে এবং তার পরিবার ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করে আসছে।
