ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার রাতে আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় অবস্থিত একটি পোশাক কারখানার ভেতরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত আলতাব হোসেনের বয়স ছিল ৫৮ বছর এবং তিনি মালিবাগ কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
এই ঘটনায় তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলামও গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর রোববার দুপুরে সাভার মডেল থানায় নিহতের স্ত্রী শিউলি পারভীন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত জহিরুল ইসলাম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত জহিরুল ইসলাম সাভারের বড়দেশি এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে এবং তিনি ভাড়াচালিত গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে কারখানার পাশে একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর করছিলেন একদল ব্যক্তি। আলতাব হোসেন সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে মারধর থামাতে গেলে হামলাকারীরা তাঁকেও আক্রমণ করে।
এক পর্যায়ে আলতাব হোসেন দৌড়ে নিজের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা প্রাইভেট কার নিয়ে কারখানার সামনে এসে জড়ো হয় এবং আরও ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। কারখানার ভেতরে ঢুকে হামলাকারীরা আলতাব হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
নিহতের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা নিয়মিত ওই এলাকায় প্রাইভেট কার নিয়ে ঘোরাফেরা করত এবং তারা মাদকাসক্ত ছিল। শরিফুল ইসলামের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা কারখানার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আরিফুল ইসলামকে মাটিতে ফেলে বুকে লাথি মারে এবং আলতাব হোসেনকে গুরুতর আঘাত করে। পরে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত আরিফুল ইসলামকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর রোববার দুপুরে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহত আলতাব হোসেনের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়ায়। রোববার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এনায়েতপুর থানার রূপনাই গাছপাড়া গ্রামে তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, ওই এলাকায় প্রায়ই মাদকসেবীরা আড্ডা দেয় এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা সেখানে জড়ো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। সাভার মডেল থানা পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে।
