সাভারের আমিনবাজারে সড়কের ওপর অটোরিকশা রাখা নিয়ে এক ব্যক্তিকে মারধরের প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে সাভার থানাধীন আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি মসজিদের পশ্চিম পাশে এই ঘটনা ঘটে।
৫৮ বছর বয়সি আলতাফ হোসেন এসবি ঢাকার মার্কেট ইন্টেলিজেন্স শাখায় কর্মরত ছিলেন। তার পুলিশ পরিচিতি নম্বর বিপি-৬৮৮৬০৫০৬০০। তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে এবং পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজার এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে আলতাফ হোসেন নামাজ পড়ার জন্য বাসা থেকে মদিনা সিটি মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন।
মসজিদের পশ্চিম পাশে আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তির অটোরিকশার গ্যারেজ রয়েছে। গ্যারেজের সামনে সড়কের ওপর একটি অটোরিকশা রাখা ছিল। এ সময় একটি সাদা প্রাইভেট কারে করে চারজন ব্যক্তি সেখানে আসেন। সড়কে অটোরিকশা থাকায় তাদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে গ্যারেজ মালিক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা গ্যারেজ মালিককে মারধর শুরু করেন। আলতাফ হোসেন ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন এবং তিনি গ্যারেজ মালিককে মারধরের কারণ জানতে চেয়ে প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলতাফ হোসেন তার ২৬ বছর বয়সি ছেলে আরিফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তারা পাশের বড় ছেলের মালিকানাধীন একটি গেঞ্জি কারখানায় আশ্রয় নেন। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাদের পিছু নিয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে লাঠি দিয়ে আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুল ইসলামের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
রাত ৯টা ১৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে আরিফুল ইসলাম বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এজাহারনামীয় ১৫ জনসহ অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত জহিরুল ইসলাম নামে ৩০ বছর বয়সি একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জহিরুল সাভারের বড়দেশি এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত প্রাইভেট কারের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় জড়িত আরও ১১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
তাদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানান, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ববোধ থেকে আলতাফ হোসেন মারধরের প্রতিবাদ করেছিলেন, যা তার ওপর হামলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এসবি ঢাকার প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আলতাফ হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে সাভার থানা-পুলিশ ও সিটিএসবি সদস্যরা অপরাধীদের ধরতে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
