জাতীয় সংসদে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের মাধ্যমে নতুন একটি বিধান পাস করা হয়েছে, যার ফলে বাবা-মা বা দাদা-দাদি তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিদের সম্পত্তি দান করার পরেও আজীবন তা ভোগ করতে পারবেন। রবিবার ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান 'দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট' সংশোধনের লক্ষ্যে এই বিলটি উত্থাপন করেন।
পরবর্তীতে কণ্ঠভোটে বিলটি সংসদে পাস হয়। বিলটি পাসের প্রক্রিয়ার সময় বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। নতুন এই আইনে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ কর্তৃক তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিদের অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগাধিকার বজায় রাখতে পারবেন।
যদি দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হয়, তবে সম্পত্তির ভোগাধিকার দাতার কাছেই থাকবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তীতে সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের নিকট হস্তান্তরিত হবে। আইনমন্ত্রী বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান ছিল না।
প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। মন্ত্রী আরও জানান, এই বিধান দেশের সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। এটি প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বা কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।
বিলটি পাসের আগে সংসদে এর তীব্র বিরোধিতা করেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি দাবি করেন যে, এই বিলটি কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার অতীতে কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন পাস না করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এই বিল পাসের মাধ্যমে তা ভঙ্গ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ওলামায়ে কেরামদের মতে, এই আইনের মাধ্যমে আজীবন ভোগদখলের বিধান রেখে দান করার যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তা ইসলামী আইনের পরিপন্থি। এর ফলে আল্লাহর দেওয়া মিরাসি বা উত্তরাধিকারের বিধানকে বাইপাস করার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে এই বিলটিকে বাবা-মায়ের সুরক্ষায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দাতার অধিকার আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই আইনটি দেশের বিদ্যমান সম্পত্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং পারিবারিক পর্যায়ে সম্পত্তির মালিকানা ও ভোগদখল সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ভূমিকা রাখবে বলে সরকার মনে করছে।
বিলটি পাসের মাধ্যমে এখন থেকে দাতা তার সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় নিজের জীবনকালীন ভোগাধিকারের বিষয়টি আইনিভাবে নিশ্চিত করতে পারবেন, যা আগে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত ছিল না। আইনটি এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে কার্যকর হবে।
