নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. সোহাগ সৌদি আরবের আবহা শহরে মৃত্যুবরণ করেছেন। গত সোমবার নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তাঁর মরদেহ আবহা শহরের একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। সোহাগের মৃত্যুর পর থেকে তাঁর পরিবার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সোহাগের বোন রোকসানা আক্তার জানান, তাঁর ভাইয়ের আকামার মেয়াদ কয়েক মাস আগে শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং পাসপোর্টও মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নবায়ন করতে না পারায় সোহাগ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। রোকসানা আক্তার আরও জানান, সোহাগের বাবা রফিক উদ্দিনও সৌদি আরবে প্রবাসী ছিলেন।
২০০৩ সালে সেখানে কর্মরত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং লাশ দেশে আনা সম্ভব না হওয়ায় তাঁকে সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা এখন আশঙ্কা করছেন, সোহাগের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে পারে। সোহাগের পরিবার সরকারের কাছে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেছে।
সোহাগের পরিবারে তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম, মা রৌশন আরা বেগম এবং দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে ফাতেমা জাহান ইকরার বয়স ১০ বছর এবং ছোট মেয়ে উম্মে জামিলা ঈশার বয়স পাঁচ বছর। সোহাগ ২০১৮ সালে সৌদি আরবে যান এবং সর্বশেষ ২০২১ সালে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। এরপর তিনি পুনরায় সৌদি আরবে ফিরে যান।
সোহাগের ছোট মেয়ে উম্মে জামিলা ঈশা যখন জন্মগ্রহণ করে, তখন সোহাগ বিদেশে ছিলেন। ফলে পাঁচ বছর বয়সী এই শিশুটি তার বাবাকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ পায়নি। রোকসানা আক্তার বলেন, তাঁর ভাইয়ের লাশ যেন সরকার দেশে আনার ব্যবস্থা করে, যাতে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে পারেন এবং এলাকার কবরস্থানে দাফন করতে পারেন।
সোহাগ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েছে। সোহাগের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সোহাগের পরিবারের আর্থিক অবস্থা এবং প্রবাসে আইনি জটিলতার কারণে মরদেহ দেশে আনা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
সোহাগের বাবা রফিক উদ্দিনের মৃত্যুর পর লাশ দেশে আনতে না পারার বিষয়টি পরিবারের জন্য দীর্ঘদিনের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সোহাগের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কায় পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সোহাগের বোন রোকসানা আক্তার বারবার সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, তাঁর ভাইয়ের লাশ যেন দেশে আনা হয়, যাতে তাঁর দুই মেয়ে অন্তত বাবার মুখ শেষবারের মতো দেখতে পায়।
বর্তমানে সোহাগের মরদেহ সৌদি আরবের হাসপাতালে হিমঘরে রাখা হয়েছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে পাসপোর্ট ও আকামার মেয়াদ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা নিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। সোহাগের পরিবার এখন কেবল তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় দিন গুনছে।
