সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা শাকসু নির্বাচনের দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনের সড়কে এই কর্মসূচি পালিত হয়। ‘শাকসু পুনরুদ্ধার আন্দোলন’ ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানান। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার বিন সেলিম মানববন্ধনে বলেন, বর্তমান প্রশাসন এবং নির্বাচিত সরকার গণতন্ত্রের কথা বললেও শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারের বিষয়ে উদাসীন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি দেশের জনগণের ভোটাধিকার থাকলে শিক্ষার্থীদের কেন গণতান্ত্রিকভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার থাকবে না। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের চর্চা সব জায়গায় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করাকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব রিয়াজ হোসেন রিমন তার বক্তব্যে বলেন, অতীতে কোন কোন রাজনৈতিক সংগঠন শাকসু নির্বাচন বন্ধের জন্য হাইকোর্টে রিট করেছিল এবং কারা নির্বাচনে সহযোগিতা না করার ঘোষণা দিয়েছিল, তা দেশবাসী দেখেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন পদে থাকা ব্যক্তিরা অতীতে শাকসু নির্বাচন বানচালের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। শাখা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক শাকিল মাহমুদ জানান, গত ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ঠিক একদিন আগে হাইকোর্টের নির্দেশে তা স্থগিত করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকার ও প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার আশা করেছিলেন।
আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে শিক্ষার্থীরা তখন আন্দোলন স্থগিত করলেও প্রশাসন নির্বাচন আয়োজনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন হবে বলে আশা করা হলেও প্রশাসন সেই বিশ্বাস রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন শাখা ইনকিলাব মঞ্চের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, শাখা ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আজাদ শিকদার এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবুল ইসলাম পবন।
বক্তারা সবাই একমত পোষণ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় শাকসু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় ক্যাম্পাসে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
তাদের মতে, ছাত্র সংসদ থাকলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সহজ হতো। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান। পুরো কর্মসূচি চলাকালে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন এবং পরবর্তী কর্মসূচির পরিকল্পনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে, কারণ এটি তাদের প্রতিনিধিত্ব করার একমাত্র মাধ্যম।
