রাজধানীর কলতাবাজার এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের এক ছাত্রীকে র্যাব পরিচয়ে মেসে ঢুকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। রোববার সকালে এই ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এই ঘটনার পর থেকে মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, রোববার সকালে কলতাবাজার এলাকায় অবস্থিত ছাত্রীদের মেসে র্যাব পরিচয়ে একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে। তারা নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-২০১৬ সেশনের ওই শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক র্যাবের গাড়িতে তুলে নেয়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক জানান, সকালে ওই শিক্ষার্থী তাকে ফোন করে মেসে র্যাব পরিচয়ে লোকজন আসার বিষয়টি জানান।
ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ওই ব্যক্তিরা প্রথমে দাবি করেন যে তারা ভুল করে সেখানে এসেছেন। পরবর্তীতে তারা দাবি করেন যে, ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা রয়েছে এবং সেই সূত্রেই তাকে নিতে এসেছেন। অধ্যাপক তারেক বিন আতিক জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন শিক্ষার্থীকে গাড়িতে তোলা হয়েছে।
তারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীকে এখান থেকে নেওয়া যাবে না। কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা পরিচয়পত্র বা মোবাইল নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির বলেন, খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান।
তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করেন যে, শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা থাকলে তা আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, পুরো ঘটনার পেছনে কোনো অনিয়ম বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান দায়িত্ব। সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি ঘটনাস্থলে যান। তিনি নিশ্চিত করেন যে, যারা এসেছিল তারা র্যাবের সদস্য ছিল এবং একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিল। পরবর্তীতে জানা যায়, এটি পারিবারিক বিরোধের কারণে করা একটি মামলা।
তবে মামলার বিস্তারিত বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীর বোনের সাবেক স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং সূত্রাপুর থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করেন।
পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনার পর মেসে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত জানতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
