রাজধানীর ধানমন্ডিতে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য রয়েছেন এবং চক্রের কয়েকজন সদস্য অতীতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র্যাব) কর্মরত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ আগস্ট দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে ধানমন্ডি মডেল থানার ১২ নম্বর সড়কে ডিঙ্গি রেস্টুরেন্টের সামনে খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ডাকাতি করা হয়। ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম সোনা কেনার উদ্দেশ্যে টাকা নিয়ে ওই চক্রের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
সোনা লেনদেনের কথা বলে তাকে কৌশলে ধানমন্ডির ওই স্থানে ডেকে আনা হয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, লেলিনের নেতৃত্বে চার-পাঁচজনের একটি দল সেখানে অবস্থান করছিল। তারা রিকশায় থাকা ভুক্তভোগীর গতিরোধ করে এবং অস্ত্রের মুখে টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ভুক্তভোগীকে মারধরও করা হয়। ডাকাত দলের সদস্যরা মোটরসাইকেলে করে টাকা নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন ও ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় তানভীর আহমেদ জুয়েল ও মো. মুজিবুর রহমানকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি দেশীয় রিভলভার উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান এলাকা থেকে মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পটুয়াখালী, কুয়াকাটা বাসস্ট্যান্ড, মোহাম্মদপুর ও বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরও ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন তানভীর আবেদীন, মো. মজিবুর রহমান, মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির, মো. সোলায়মান মৃধা, মোহাম্মদ কবির হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, মো. জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন, সজল চৌধুরী ও সায়মুন চৌধুরী। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মো. জাকারিয়া হোসেনের কাছ থেকে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫০ টাকা এবং সজল চৌধুরীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মো. মুজিবুর রহমান সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট, মো. জাকির হোসেন অনারারি ক্যাপ্টেন এবং সোলায়মান মৃধা সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন। চক্রটির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তারা সোনা কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত থাকার ভান করে ক্রেতাদের প্রলুব্ধ করত।
সোনা দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নেওয়া হতো এবং পরে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে ডাকাতি করা হতো। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তানভীর আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে চারটি, সজল চৌধুরীর বিরুদ্ধে ছয়টি, জাকারিয়া হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি এবং আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানায় ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
