চলতি বছর ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার মূল আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন সামানজার সাঈদ। আন্তর্জাতিক এই সুন্দরী প্রতিযোগিতার মঞ্চে তিনি বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিয়েছিলেন। যদিও চূড়ান্ত পর্বে সেরা ৪০ প্রতিযোগীর তালিকায় তিনি জায়গা করে নিতে পারেননি, তবে ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ বিভাগে বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছেন।
এই বিভাগে তার প্রকল্প এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের সেরা ছয়টি প্রকল্পের মধ্যে স্থান করে নেয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামানজার সাঈদ মূলত ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে যাওয়ার সুযোগ পান। গত ১১ জুলাই রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের মল্লিকা হলে আয়োজিত গ্র্যান্ড ক্রাউনিং অনুষ্ঠানে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
নিজের দেশের মুকুট জয়ের পরপরই তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেন। সামানজার সাঈদ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি ও বায়োটেকনোলজি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। পড়াশোনা শেষ করার পর কৌতূহলবশত তিনি মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং প্রথমবার অংশ নিয়েই বিজয়ী হন। মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর চূড়ান্ত আসরটি ভিয়েতনামের নিয়া ট্রাং শহরে অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের আসরে বিশ্বের মোট ১১১টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত পর্বে প্রথমে সেরা ৪০ জন প্রতিযোগীকে নির্বাচন করা হয়। এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে মোট ১০ জন প্রতিযোগী সেরা ৪০-এর তালিকায় স্থান পেলেও সামানজার সাঈদ সেই তালিকায় জায়গা পাননি। তবে সেরা ৪০-এ পৌঁছাতে না পারলেও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি।
বিশেষ করে ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ বিভাগে তার প্রকল্পের সাফল্য আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের এই প্রতিনিধির জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথমবার অংশ নিয়ে মুকুট জয় এবং পরবর্তীতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার মাধ্যমে সামানজার সাঈদ অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন।
যদিও এবারের আসরে তিনি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি, তবুও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার এই অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সামানজারের এই যাত্রা অনেক তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা ভবিষ্যতে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে কাজে আসবে বলে আশা করা যায়।
মিস ওয়ার্ল্ডের মতো একটি বিশাল প্ল্যাটফর্মে নিজের প্রকল্প উপস্থাপন করা এবং এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের সেরা ছয়ের মধ্যে জায়গা করে নেওয়া সামানজারের জন্য একটি বড় অর্জন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার মাধ্যমে তিনি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা করেছেন। প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপে তিনি নিজের দক্ষতা ও মেধার পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
যদিও চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি সফল হতে পারেননি, তবে তার এই অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা। সামানজার সাঈদ এখন তার এই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে নতুন কোনো পথে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তার এই যাত্রার প্রতিটি ধাপ দেশের মানুষের কাছে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
