সরাসরি
বাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাববাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব
National মিনিট পড়া
|১০০%|

মানবাধিকার সুরক্ষা, গুম প্রতিরোধ ও সম্পত্তি হস্তান্তরে তিনটি বিল জাতীয় সংসদে পাস

মানবাধিকার সুরক্ষা, গুম প্রতিরোধ ও সম্পত্তি হস্তান্তরে তিনটি বিল জাতীয় সংসদে পাস
মানবাধিকার সুরক্ষা, গুম প্রতিরোধ ও সম্পত্তি হস্তান্তরে তিনটি বিল জাতীয় সংসদে পাস — বাংলা ধ্বনি

জাতীয় সংসদে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, গুমকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আজীবন ভোগদখলের অধিকার প্রবর্তনের লক্ষ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে এই বিলগুলো পাস হয়। বিলগুলো পাসের প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এই দিনটিকে কালো দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬ এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল ২০২৬। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মানবাধিকার কমিশন বিল ও সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করেন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬ পাসের মাধ্যমে ২০০৯ সালের বিদ্যমান আইনটি রহিত করা হয়েছে। নতুন এই আইনে একটি কার্যকর ও স্বাধীন কমিশন গঠনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। কমিশন একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত হবে, যেখানে অন্তত একজন নারী এবং একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা অনগ্রসর সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিলটিতে কমিশনের তদন্তের এখতিয়ার স্পষ্ট করা হয়েছে এবং ভিকটিমকে হুমকি থেকে রক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের আলোকে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু প্রতিরোধে একটি জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬ অনুযায়ী, গুমকে একটি আমলযোগ্য, অসংযোগযোগ্য ও অ-আপসযোগ্য অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি সরকারি দায়িত্বে থেকে কাউকে আটক বা অপহরণের পর তা অস্বীকার করেন, তবে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ভিকটিমের মৃত্যু হলে বা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিলে অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণ এবং সাক্ষী ও ভিকটিমের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

ভিকটিমের পরিবারকে সরকারি খরচে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের অর্থ সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে আদায় করা হবে, অন্যথায় রাষ্ট্র এই ব্যয় বহন করবে। গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীলরা তার সম্পত্তি জীবনযাত্রার খরচে ব্যবহার করতে পারবেন এবং পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারের জন্য গুমের সনদ দেওয়া হবে।

তবে তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপরই ন্যস্ত রাখা হয়েছে। সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল ২০২৬ এর মাধ্যমে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন করা হয়েছে। নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা যুক্ত করার ফলে সম্পত্তি প্রদানকারী ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় হস্তান্তরিত সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার বজায় রাখতে পারবেন। এটি সব ধর্মের মানুষের জন্য প্রযোজ্য হবে এবং মুসলিম আইনের হেবা বা সাধারণ দানকে ব্যাহত করবে না।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন যে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারে দ্বিমুখী নীতি রাখা হয়েছে। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জড়িত থাকলে তদন্তের ক্ষেত্রে বাহিনীর অনুমতি নেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে, যা বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এই বিলগুলোর বিষয়ে জনমত যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় বিরোধীদল ওয়াকআউট করে।

গত ২৭ আগস্ট বিলগুলো সংসদে উত্থাপনের পর সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল এবং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই বিলগুলো পাস করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বেশ কিছু অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই আইনগুলো পাস করা হলো।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT
তাসনিম আরা তথ্যাদি সম্পাদকীয় যাচাইকৃত

বাংলা ধ্বনি নিউজরুমের নিবন্ধিত সাংবাদিক। তথ্য অনুসন্ধান, সামাজিক সচেতনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বাংলা ধ্বনি নিউজরুম বিশেষ বিশ্লেষণ

এই প্রতিবেদনটি বাংলা ধ্বনি নিজস্ব সম্পাদকীয় পরিষদ কর্তৃক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ যাচাইকরণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদটির ধারাবাহিক আপডেট পেতে সাথে থাকুন।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম
পাঠকদের প্রতিক্রিয়া
পরিবেশনায়: তাসনিম আরা© 2026 Bangla Dhwani (বাংলা ধ্বনি)
সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ খবর

আরও পড়ুন

/ ১৫