গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রোববার দুপুরে ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসরাকুল ইসলাম এই অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ফুলছড়ি থানায় উপস্থিত হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান। অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সুমন মোল্লা, বাদশা মোল্লা, জাহিদ হাসান নয়ন, ফজলে রাব্বি, এএসএম রফিকুল ইসলাম এবং শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি। অভিযোগকারী মাহমুদুল হাসান দাবি করেন, অভিযুক্তরা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেছেন এবং বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি ও মানহানিকর প্রচারণা চালিয়েছেন।
তার ভাষ্যমতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। মাহমুদুল হাসান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের আবেগের জায়গা এবং তাকে নিয়ে এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় অভিযোগ করেছেন। এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন সুমন মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি দাবি করেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সুমন মোল্লার ভাষ্যমতে, তার বাবা এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের একজন ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাবার সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার হীন উদ্দেশ্যেই তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসরাকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, তারা এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন।
বর্তমানে অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কাজ করছে এবং তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার বিষয়টি বর্তমানে দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় একটি সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সাধারণত ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পোস্টের উৎস এবং এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করে।
গাইবান্ধার এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারী এবং অভিযুক্তদের পাল্টাপাল্টি দাবির প্রেক্ষিতে পুলিশ এখন ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের নাম ও পরিচয় যাচাই-বাছাই করছে এবং ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের ঘটনা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
