ফেনীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপোল এলাকায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে মো. আবদুল আলিম নামের এক কাস্টমস কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় বাসের আরও অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনের পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. আবদুল আলিম চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট পৌর এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে। তিনি সিলেট কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট অফিসে অ্যাসিস্ট্যান্ট রেভিনিউ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রামমুখী লেনে চলন্ত একটি ট্রাক হঠাৎ ব্রেক করলে পেছনে থাকা শ্যামলী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়।
বাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১৪২৫। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের ডান পাশে থাকা রোড ডিভাইডারের ওপর উঠে গিয়ে উল্টে যায়। এতে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল আলিম মৃত্যুবরণ করেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সড়কের ওই অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে ঢাকামুখী লেনে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সড়ক থেকে সরিয়ে নিতে হাইওয়ে পুলিশ দুটি রেকার ব্যবহার করে।
প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় বাসটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় এবং যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়। মহিপাল হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজেদ হোসেন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে কাজ করেছে। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ট্রাকের হঠাৎ ব্রেক করার বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা কাউকে আটক করার তথ্য পাওয়া যায়নি। মহাসড়কের ওই এলাকায় দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকাজ চলাকালীন হাইওয়ে পুলিশ সতর্কতার সাথে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করে। নিহত কর্মকর্তার মরদেহ ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আহতদের ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় যানজট থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। আড়াই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ এবং ট্রাকের চালকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মহাসড়কের ওই অংশে সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নিহত আবদুল আলিমের মৃত্যুতে তার পরিবার ও কর্মস্থলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
