সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের টানে চীন থেকে টাঙ্গাইলের সখীপুরে ছুটে এসেছিলেন ডং লিয়াং নামের এক চীনা যুবক। তিনি সখীপুরের বাগবেড় গ্রামের বাসিন্দা আশিতা নামের এক তরুণীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন। তবে ভিসার মেয়াদ কম থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি এবং ওই যুবককে ঢাকায় চীনা দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে ওয়ার্ল্ড টক নামক একটি অ্যাপের মাধ্যমে আশিতা ও ডং লিয়াংয়ের পরিচয় হয়। নিয়মিত যোগাযোগের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের টানেই ডং লিয়াং সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় তিনি সখীপুর বাজারে এসে পৌঁছালে আশিতা তাকে স্বাগত জানান এবং বাড়িতে নিয়ে যান।
ডং লিয়াংয়ের বাংলাদেশে আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আশিতাকে বিয়ে করা। বিয়ের পর তিনি আশিতাকে সঙ্গে নিয়ে চীনে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। আশিতা সখীপুর উপজেলার বাগবেড় গ্রামের প্রবাসী আজমত আলীর মেয়ে। ডং লিয়াংয়ের আগমনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাকে দেখার জন্য স্থানীয় লোকজন আশিতার বাড়িতে ভিড় করেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাত ১২টার দিকে তারা বিষয়টি সখীপুর থানায় অবহিত করেন। মেয়েটি যাতে কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার না হন, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্থানীয়রা উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনার পর দুই পক্ষের সম্মতিতে একটি গাড়ি ভাড়া করে ডং লিয়াংকে ঢাকায় চীনা দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, ওই চীনা নাগরিক আসার পরপরই ফিরে গেছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন যে, ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে তিনি খুব দ্রুতই বাংলাদেশে ফিরে আসবেন এবং ধর্মীয় রীতি মেনে আশিতাকে বিয়ে করবেন। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন জানিয়েছেন, মেয়েটির নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের প্রতারণা যাতে না ঘটে, সেজন্য স্থানীয়রা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ওই চীনা নাগরিককে দূতাবাসে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন।
স্থানীয় লোকজন তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ডং লিয়াং পুনরায় বাংলাদেশে এসে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন। বর্তমানে ওই চীনা যুবক ঢাকায় চীনা দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আশিতা ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ডং লিয়াংয়ের ভিসার মেয়াদ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন হলে তিনি পুনরায় বাংলাদেশে আসার প্রক্রিয়া শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারা মেয়েটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যাতে কোনো আইনি জটিলতা বা প্রতারণার ঘটনা না ঘটে। বর্তমানে আশিতা তার নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন। ডং লিয়াংয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে তাদের বিয়ের বিষয়টি।
