মাদারীপুর পৌরসভা নির্বাচনের কোনো তারিখ বা সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না এলেও মাদারীপুর শহরজুড়ে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের রঙিন পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার দেয়াল এবং গাছপালা পর্যন্ত এসব প্রচারণামূলক সামগ্রীতে পূর্ণ হয়ে আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে, নতুন ও পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা, জেলা শিল্পকলা একাডেমি এবং সদর উপজেলা পরিষদের সামনেসহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে এসব পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে গাছের গায়ে পেরেক দিয়ে এসব ব্যানার আটকানো হয়েছে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন বা জাতীয় সংসদ নির্বাচন—কোনোটির ক্ষেত্রেই রঙিন পোস্টার বা ব্যানার ব্যবহারের আইনি বিধান নেই। অথচ নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে এবং নিজেদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরার লক্ষ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে অ্যাডভোকেট মো. জামিনুর হোসেন মিঠু, অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রেজা, মর্তুজা আলম ঢালী, মিজানুর রহমান মুরাদ, রফিকুল ইসলাম মাতুব্বর, নজরুল ইসলাম লিটু, সাইদুল ইসলাম লাবলু হাওলাদার, অহিদুজ্জামান খান অহিদ, আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী এবং কাজী কাওসারসহ বেশ কয়েকজনের নাম পোস্টার ও ব্যানারে দেখা যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সম্ভাব্য প্রার্থী জানান, পরিচিতি বাড়াতে অনেকেই পোস্টার টাঙিয়েছেন, তাই তিনিও একই পথ অনুসরণ করেছেন। তবে প্রশাসন যদি এসব অপসারণের উদ্যোগ নেয় এবং অন্য কেউ পোস্টার না টাঙায়, তবে তিনিও এই চর্চা থেকে সরে আসবেন। শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়া এবং সরকারি অফিসের দেয়ালে এভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
পথচারী রাকিব হাসান জানান, সরকারি অফিসের দেয়ালগুলো পোস্টারে ঢেকে যাওয়ায় শহরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মাদারীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নবীন হাসান বলেন, নির্বাচনের কোনো কার্যক্রম শুরু না হতেই শহরজুড়ে এমন পোস্টারের ছড়াছড়ি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং প্রশাসনের উচিত দ্রুত এগুলো অপসারণ করা। পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচারের সদস্য শাখাওয়াত হোসেন মামুন জানান, গাছে পেরেক মেরে পোস্টার লাগানোর ফলে গাছের ক্ষতি হচ্ছে এবং শহরটি বিজ্ঞাপনের শহরে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার আবু আহমেদ ফিরোজ ইলিয়াস জানান, এর আগেও বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে পোস্টার ও ব্যানার অপসারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অপসারণের কয়েকদিন পরেই পুনরায় সেগুলো টাঙানো হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অতীতে অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, খুব দ্রুতই এসব অবৈধ প্রচারণামূলক সামগ্রী অপসারণে পুনরায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচন নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের এই আগাম প্রচারণার ফলে মাদারীপুর শহরজুড়ে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, আইনি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে এভাবে শহরজুড়ে পোস্টার লাগানো বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের প্রচারণা বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
