দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার পৌরিয়া গ্রামে চেক জালিয়াতির মামলার আসামি মনে করে মাহবুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে পুলিশ সদস্যরা মাহবুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর পরদিন বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি বাড়ি ফিরেছেন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানি ও সম্মানহানির অভিযোগ তুলেছে। মাহবুর রহমান বীরগঞ্জ উপজেলার জগদল উচ্চবিদ্যালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত এবং মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে পাঠদানও করেন। তাঁর বয়স ৫৬ বছর। গ্রেপ্তারের সময় তিনি বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। পুলিশ সদস্যরা বাড়ির প্রধান ফটকে কড়া নাড়ার পর মাহবুর রহমান দরজা খুলতে গেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে পুলিশ সদস্যরা প্রাচীর টপকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় মাহবুর রহমান পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে তাঁর নামে কোনো মামলা নেই এবং কারও সঙ্গে তাঁর কোনো আর্থিক লেনদেনও নেই। কিন্তু পুলিশ তাঁর কথায় কর্ণপাত না করে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর ছেলে নাঈম ইসলাম জানান, তিনি ঢাকায় পড়াশোনা ও চাকরিরত অবস্থায় বাবার গ্রেপ্তারের খবর পান।
তিনি দ্রুত বাড়িতে ছুটে আসেন এবং থানায় গিয়ে বাবার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও তাঁকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। নাঈম ইসলাম আরও জানান, আদালতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে মামলার প্রকৃত আসামি একজন ব্যবসায়ী, যার নাম মাহাবুর রহমান। ভুক্তভোগী মাহবুর রহমান এবং প্রকৃত আসামি মাহাবুর রহমানের নামের বানানে সামান্য পার্থক্য থাকলেও পিতার নাম ও ঠিকানার মিল থাকায় এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
প্রকৃত আসামির বাড়ি পৌরিয়া গ্রামের সুধারুর মোড় এলাকায় এবং ভুক্তভোগী মাহবুর রহমানের বাড়ি একই গ্রামের পুলিয়া পাড়ায়। দুই পাড়ার দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। মামলার বাদী সেলিম মঞ্জুর জানান, প্রকৃত আসামি মাহাবুর রহমান তাঁর কাছ থেকে সাত লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন এবং সেই টাকা পরিশোধ না করায় তিনি আদালতে চেক জালিয়াতির মামলা করেন।
গত ১ এপ্রিল এই মামলার প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। কাহারোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিমুর রহমান জানান, প্রকৃত আসামির নাম, পিতার নাম ও ঠিকানার সঙ্গে মিল থাকায় এই ভুল হয়েছে। ওয়ারেন্টের কাগজে মায়ের নাম বা ফোন নম্বর না থাকায় অধিকতর যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভুক্তভোগীর ছেলে নাঈম ইসলাম পুলিশের এই কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মাহবুর রহমানের বয়স ৫৬ বছর, অথচ প্রকৃত আসামির বয়স ৩২ বছর। পুলিশ চাইলে গ্রেপ্তারের আগে আরও ভালোভাবে যাচাই করতে পারত। এছাড়া স্থানীয় অনেক পুলিশ সদস্য মাহবুর রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং তাঁর সঙ্গে পরিচিত।
এত কিছুর পরেও ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করায় পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাঈম ইসলাম জানান, তাঁর বাবাকে মাদক মামলার আসামিদের সঙ্গে রাখা হয়েছিল, যা পরিবারের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তারা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং মাহবুর রহমানের সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
