নাটোরের সিংড়ায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে মো. আবু বক্কার সিদ্দিক নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শারমিন আক্তার এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কার সিদ্দিকের বয়স ২১ বছর। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আদায় করা এই অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগী শিশুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হবে। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা মূলে দণ্ডিত আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন সকাল সোয়া ৮টার দিকে সাত বছর বয়সী শিশুটি মাদরাসার কক্ষের পাশ দিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় আবু বক্কার সিদ্দিক তাকে ধর্ষণ করে। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে সিংড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এই রায় প্রদান করেন। নাটোর জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের জবানবন্দি ও মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।
শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান থাকায় এই রায় সমাজ ও বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ যথাযথভাবে সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মামলার নিষ্পত্তি হলো। দণ্ডিত আসামি আবু বক্কার সিদ্দিক ঘটনার পর থেকেই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। বর্তমানে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার সাজা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিচারক শারমিন আক্তার রায়ের পর্যবেক্ষণে অপরাধের ভয়াবহতা ও শিশু সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এই রায়ের ফলে ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ঘটনার সময় শিশুটি তার গন্তব্যে যাওয়ার পথে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হয়। স্থানীয় পর্যায়ে এই ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।
মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে আদালত সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা করেছেন। আইন অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এই রায় প্রদান করেছেন যা দেশের প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগের একটি উদাহরণ। মামলার রায় ঘোষণার সময় আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। দণ্ডিত আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন।
