দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে গিয়ে সর্বস্তরের মানুষের উষ্ণ সংবর্ধনায় সিক্ত হলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আয়োজনে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি অংশগ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখার জন্য সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ মাঠ প্রাঙ্গণে সমবেত হন। রাষ্ট্রপতির আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো ঠাকুরগাঁও জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দুই দিনের সফরের অংশ হিসেবে রোববার দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানোর পর তিনি শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম থেকে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউজে যান।
সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সার্কিট হাউজে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর রাষ্ট্রপতি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন। বিকেলে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। তবে তিনি সবসময় এই অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া বন্ধ হয়ে থাকা বিমানবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়েও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে। তিনি দেশে আর কোনো রক্তপাত চান না এবং একটি সুন্দর ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনের আহ্বান জানান। কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের মানুষের উন্নতির জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা অপরিহার্য।
বেকারত্ব দূর করার লক্ষ্যে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দেন। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে হবে। একটি সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতির এই সফরকে ঘিরে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল স্থানগুলোতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচি রয়েছে। ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির এই সফর ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির এই সফর ঠাকুরগাঁওয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, নিজ জেলার মানুষের কাছে রাষ্ট্রপতির জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত গভীর।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের প্রতিটি বিষয় স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের ইঙ্গিত বহন করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতির সফরসূচি অনুযায়ী সকল কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সোমবারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানকে ঘিরেও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
