শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৪৩ জন সহকারী শিক্ষকের চাকরি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০২১-এর আলোকে এই শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ী করা হয়েছে।
এই বিধিমালায় বর্ণিত চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করার পরই মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এই শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ী হওয়ায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চাকরি স্থায়ী হওয়া এই শিক্ষকদের মধ্যে অনেকে ২০১৭ সালে, অনেকে ২০১৮ সালে এবং বাকিরা পরবর্তী সময়ে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন।
দীর্ঘ সময় ধরে তারা অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এখন চাকরি স্থায়ী হওয়ার ফলে তারা সরকারি চাকরির সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চাকরি স্থায়ী হওয়া শিক্ষকদের যোগদানের তারিখ থেকেই তাদের বেতন ও ভাতাদি কার্যকর করা হবে। এর অর্থ হলো, তারা চাকরিতে যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত যে বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, তার বকেয়া অংশও পরিশোধ করা হবে।
বকেয়া বেতন-ভাতাসহ আনুষঙ্গিক সব পাওনাদি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণ একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং তাদের পেশাগত মানোন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা পাওয়ার পথ সুগম হলো।
সাধারণত সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শিক্ষানবিশকাল বা অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এরপর চাকরির শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তা স্থায়ী করা হয়। এই ২৪৩ জন শিক্ষকের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত শিক্ষকদের পদোন্নতি ও স্থায়ীকরণের বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হয়।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের তালিকা এবং তাদের স্থায়ীকরণের বিস্তারিত তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তারা আরও মনোযোগ দিয়ে পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই প্রজ্ঞাপনটি দেশের শিক্ষা খাতের প্রশাসনিক কার্যক্রমের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যেসব শিক্ষক এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বকেয়া বেতন-ভাতা উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এই পুরো বিষয়টি তদারকি করবে।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়াটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো এবং তাদের চাকরির অনিশ্চয়তা দূর হলো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা হবে যাতে শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য পাওনাদি যথাসময়ে বুঝে পান।
