দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় ড্রাগ লাইসেন্স না থাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার দুপুরে উপজেলার জোতবানি ইউনিয়নের কেটরা বাজার এবং পৌরশহরের কলেজ বাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া নওশীন এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই উপজেলার বিভিন্ন ওষুধের দোকানে ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুদ রাখা এবং চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত স্যাম্পল ওষুধ বিক্রির অভিযোগ আসছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কেটরা বাজারের দুটি দোকান এবং কলেজ বাজার এলাকার একটি দোকানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া নওশীন জানান, অভিযানে তিনটি দোকানে অনিয়ম পাওয়ায় মোট ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে এবং ওষুধের মান নিশ্চিত করতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে যদি তারা পুনরায় একই ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযানে জব্দকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ওষুধের দোকানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ওষুধের দোকানে লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এই আইন অমান্য করে যারা ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ওষুধের দোকানে নিয়মিত তদারকি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বিরামপুর উপজেলায় ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান জনমনে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ওষুধের দোকানে স্যাম্পল ওষুধ বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কারণ এই ওষুধগুলো বিক্রির জন্য নয় বরং চিকিৎসকদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হয়। লাইসেন্সবিহীন ওষুধের দোকানগুলো সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, কারণ এসব দোকানে ওষুধের মান ও সংরক্ষণের সঠিক ব্যবস্থা থাকে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযানের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে উপজেলা প্রশাসন।
ভবিষ্যতে ওষুধের দোকানে এ ধরনের অনিয়ম রোধে নিয়মিত তদারকি ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশ্চিত করেছেন।
