রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুই দিনের সরকারি সফরে আজ রোববার দুপুরে তাঁর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর। আজ দুপুরে হেলিকপ্টারে করে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন। রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে জেলাজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক এবং পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন। এ সময় নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। স্টেডিয়ামে অবতরণের পর রাষ্ট্রপতি সড়কপথে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসে গমন করেন। সেখানে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
সার্কিট হাউসে কিছু সময় অতিবাহিত করার পর তিনি তাঁর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শুরু করেন। রাষ্ট্রপতির এই দুই দিনের সফরসূচি অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে কাটবে বলে জানা গেছে। সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি তাঁর মা ও বাবার কবর জিয়ারত করবেন। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির সভাপতি আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানানো হবে। এই সফরের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হলো ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করছেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর সফরের দ্বিতীয় দিনে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করবেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলায় এটিই তাঁর প্রথম সফর হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ প্রস্তুতির ছাপ দেখা গেছে। সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
এরপর তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ঠাকুরগাঁওয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার সুযোগ থাকবে বলে স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। সফর শেষে আগামীকাল সোমবার রাষ্ট্রপতির ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। এই দুই দিনের সফরে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাবেন।
রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টি এই অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার প্রসারে বড় ধরনের অবদান রাখবে।
রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। দুই দিনের এই সফর শেষে তিনি পুনরায় ঢাকায় ফিরে যাবেন। রাষ্ট্রপতির এই সফরকে ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসন তাঁর সব কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতির এই সফর ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে বলে স্থানীয়রা আশা করছেন।
