রবিবার ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনটি বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেছেন। রাত আটটার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে চলা এই অধিবেশন থেকে তারা বেরিয়ে যান। সংসদ ভবন থেকে বের হওয়ার সময় বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা তাদের মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানান।
বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সংসদ ভবনের একটি টানেলে বিরোধী দলীয় নেতারা সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দিনটিকে সংসদের জন্য একটি কালো দিন হিসেবে অভিহিত করেন।
বিরোধী দলীয় নেতারা অভিযোগ করেন যে, স্পিকার পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। তাদের দাবি, পাস হওয়া বিলগুলো জনস্বার্থ ও মানবাধিকারের পরিপন্থী এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পিকারের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, বিরোধী দলীয় নেতা সংসদে কথা বলার সুযোগ চেয়েছিলেন কিন্তু তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন যে, স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতার সাথে উপহাসমূলক আচরণ করেছেন। নাহিদ ইসলাম স্পিকারের এই আচরণকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে বর্ণনা করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সরকার বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল তাড়াহুড়ো করে সংসদে উত্থাপন ও পাস করেছে।
তার দাবি অনুযায়ী, এই বিলগুলোতে স্বাধীন তদন্তের ন্যূনতম কোনো সুযোগ রাখা হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র নাজিবুর রহমান পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন যে, এই বিলটি কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী। আইনমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, মন্ত্রী ইসলামী নীতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা না রেখেই সংসদে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন।
নাজিবুর রহমানের মতে, স্পিকারের প্রধান দায়িত্ব হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, মানবাধিকার রক্ষা ও গুম প্রতিরোধের আইনগুলোকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে সরকার সেগুলোকে দুর্বল করে সংসদে পাস করেছে। এই আইনগুলোকে তিনি কালো আইন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এই আইনগুলো মানুষকে মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতে গুম ও হত্যাকাণ্ডের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। নাজিবুর রহমান আরও অভিযোগ করেন যে, গত ১৭ বছর ধরে সীমাহীন নিপীড়ন চালানোর পর সরকার আবারও পুরনো কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের এই ওয়াকআউট এবং পরবর্তী প্রতিবাদ কর্মসূচি সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তারা মনে করেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধী দলের মতামত উপেক্ষা করে বিল পাস করা সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। সংসদীয় কার্যপ্রণালীতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তারা তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। এই ঘটনার পর সংসদ ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে সরকারি পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংসদীয় অধিবেশন চলাকালীন এই ধরনের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট অতীতেও দেখা গেছে, তবে এবার মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানানোর বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। বিরোধী দলীয় নেতারা জানিয়েছেন যে, তারা জনগণের অধিকার রক্ষায় তাদের এই প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন।
সংসদীয় কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপগুলোতেও তারা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন।
