বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর বা বিএনসিসির একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে এই আনুষ্ঠানিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এই সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কন্টিনজেন্টের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত এবং গতিশীল করার উপায় নিয়ে আলোচনা করা।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধানের সঙ্গে বিএনসিসির বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন ভূঁঞা, মেহেদী হাসান এবং ড. নাফিজা ফেরদৌসী। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিএনসিসির বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে পর্যায়ক্রমে আরও বেশি হারে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিএনসিসি মূলত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেমের চেতনা বিকাশে কাজ করে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার সময় ক্যাম্পাসে বিএনসিসির কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি বিএনসিসি সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি শৃঙ্খলার চর্চা একজন শিক্ষার্থীর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ক্যাম্পাসে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার জন্য বিএনসিসি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। উপাচার্য মনে করেন যে, বিএনসিসির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কেবল শারীরিক প্রশিক্ষণই পায় না, বরং তাদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলিও বিকশিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে বিএনসিসির মাধ্যমে দেশের সেবায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়।
বিএনসিসির কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ এবং দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রতিনিধিদল আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই সাক্ষাতের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিএনসিসির মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে বিএনসিসির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশেষ করে দুর্যোগকালীন সময়ে বা জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিএনসিসি ক্যাডেটদের অংশগ্রহণ প্রশংসনীয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিএনসিসি প্রতিনিধিদলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিএনসিসির বর্তমান কার্যক্রমের পরিধি বাড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আরও বেশি উপকৃত হবে এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটবে।
বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে তাদের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন এবং ভবিষ্যতে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিএনসিসির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি এবং তাদের এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়াটি কীভাবে আরও সহজতর করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
পরিশেষে, উপাচার্য বিএনসিসি সদস্যদের তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন। এই সাক্ষাতটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
