টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল’ রোববার শেষ হয়েছে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে উৎসবের শেষ দিনেও মেলায় মিষ্টিপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই উৎসবে জেলার ১২টি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও তাঁতের শাড়ি প্রদর্শন করা হয়।
শুক্রবার বিকেলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই উৎসবের উদ্বোধন করেন। মেলায় প্রায় ২২টি স্টলে স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে পোড়াবাড়ির চমচম, জামুর্কীর সন্দেশ, গারোর বাজারের রসগোল্লা এবং বাসাইলের সাদা দই অন্যতম। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য।
বিশেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৌর উদ্যানে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এই উৎসবের মূল লক্ষ্য হলো ‘ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল’ গড়ে তোলার মাধ্যমে জেলার শতবর্ষী মিষ্টি শিল্পকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করা। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের জন্য উদ্যোক্তা তৈরির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, মিষ্টি কারিগর ও তাঁতশিল্পীদের নতুন ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই মেলার মাধ্যমে। মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, টাঙ্গাইলের মিষ্টির ঐতিহ্য অনেক পুরনো এবং এই ধরনের আয়োজন জেলার সুনাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা বিক্রেতারা জানান, তিনদিনে তারা ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন এবং বিক্রিও সন্তোষজনক হয়েছে।
তারা প্রতি বছর এমন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। জেলা মিষ্টি মালিক সমিতির সভাপতি স্বপন ঘোষ জানান, এই আয়োজনের মাধ্যমে পোড়াবাড়ির চমচমসহ জেলার অন্যান্য মিষ্টির ঐতিহ্য নতুনভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে। তিনি মেলায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ ও সমাগমকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, জেলার প্রতিটি উপজেলার দক্ষ কারিগরদের হাতের তৈরি স্বতন্ত্র মিষ্টিগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করার লক্ষ্যেই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে এই উৎসব আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজিত হবে এবং টাঙ্গাইল পর্যটনের নতুন গন্তব্য হিসেবে মিষ্টি শিল্পের রাজধানী হিসেবে পরিচিতি পাবে। উৎসবের সমাপনী দিনেও মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল। মিষ্টির পাশাপাশি টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ি প্রদর্শনীও দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে মিষ্টি ও তাঁতশিল্পের সমন্বয়ে টাঙ্গাইলের নিজস্ব ঐতিহ্য নতুনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী বিক্রেতারা জানান, ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ তাদের উৎসাহিত করেছে এবং স্থানীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে এই মেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনদিনের এই আয়োজনে টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিকশিত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা সফল হয়েছে বলে আয়োজকরা মনে করছেন।
উৎসবটি শেষ হওয়ার পরও এর প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
