জয়পুরহাট সদর উপজেলার নশরতপুর দ্বিমুখী দাখিল মাদরাসায় অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার মাদরাসাটিতে এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরুর আগে থেকেই স্থানীয় চাকরিপ্রার্থী ও তাদের স্বজনরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে একজন করে মোট দুজন কর্মী নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। এই দুটি পদের বিপরীতে মোট ১১ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই পরিচালনা কমিটির পছন্দের প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছিল। স্থানীয় যুবক সালমান বিন মৃদুল অভিযোগ করেন যে, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে পুরানাপৈল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরমান হোসেন হিরোর ভাই শাওন হোসেন এবং অফিস সহায়ক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন সৌরভকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।
এই অভিযোগের কারণে অনেক প্রার্থীই মনে করেছিলেন যে নিয়োগ পরীক্ষাটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক হোসেন, আবু সুফিয়ান ও জুয়েল দাবি করেন যে, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ না দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাদরাসার এডহক কমিটিকে রাতের আঁধারে পূর্ণাঙ্গ নিয়মিত কমিটিতে রূপান্তর করার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদরাসার সুপার আব্দুস ছালাম পরীক্ষা শুরুর আগে দাবি করেছিলেন যে, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং সব নিয়ম মেনেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তবে পরীক্ষা শেষে সন্ধ্যায় যখন চূড়ান্ত নিয়োগপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়, তখন দেখা যায় যে অভিযোগকারীদের উল্লেখ করা ব্যক্তিরাই দুই পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
এই ফলাফল প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়। নিয়োগ কমিটির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া দাবি করেছেন যে, সকল নিয়মকানুন মেনেই নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে, জয়পুরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আযিযুল হাকিম জানিয়েছেন যে, এই নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ তার দপ্তরে জমা দেননি।
তিনি আরও বলেন, যদি কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে আসেন, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মাদরাসার নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট এই উত্তেজনা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলী এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়, তবে জয়পুরহাটের এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিয়োগ কমিটির কার্যক্রম এবং চূড়ান্ত ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিরসনে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এবং নিয়োগ কমিটির পক্ষ থেকে সব নিয়ম মানার দাবি করা হলেও, চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগের বিষয়টি এখন জনসমক্ষে চলে এসেছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
