কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সার না পেয়ে কৃষকরা বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছেন। রোববার সকালে নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা বাজারে এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার মিলনীবাজারে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা বাজারে অবস্থিত কাশেম ট্রেডার্স নামের একটি সারের ডিলার পয়েন্টে সকাল ৮টা থেকে কৃষকরা সার সংগ্রহের জন্য জড়ো হতে শুরু করেন।
সকাল ৯টা পর্যন্ত ডিলারের লোকজন উপস্থিত না হওয়ায় সেখানে অপেক্ষমাণ দুই শতাধিক কৃষক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এই বিশৃঙ্খলার সময় ডিলার পয়েন্টের টিনের বেড়ার কিছু অংশ ভেঙে যায়। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারের গুদামে সার মজুদ থাকা সত্ত্বেও সময়মতো বিক্রয় কার্যক্রম শুরু না করায় তারা অস্থির হয়ে পড়েন।
কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অর্পণ কুমার জানান, দোকানঘর পুরোপুরি ভাঙচুর না হলেও অতিরিক্ত মানুষের চাপে টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, বিপুল সংখ্যক কৃষক একসঙ্গে সার পাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছিলেন, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন ছিল।
পরবর্তীতে পুলিশের উপস্থিতিতে ডিলার পয়েন্ট থেকে সার বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। একই দিনে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের মিলনীবাজারেও সারের সংকট নিয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সার না পেয়ে কৃষকরা স্থানীয় সড়কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক জানান, মিলনীবাজারে ৪০০ বস্তা সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে সার নিতে আসা কৃষকের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় ডিলার ভয় পেয়ে যান। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে সার বিতরণ করা হয়। কুড়িগ্রামের এই দুটি ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে সারের চাহিদা ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সার বিতরণের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রশাসন ও পুলিশ নিয়মিত তদারকি করছে। কৃষকদের দাবি, সার সংগ্রহের সময় যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা দীর্ঘসূত্রতা না হয়। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বরাদ্দকৃত সার সঠিক নিয়মে কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তারা কাজ করছেন।
সার ডিলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা সময়মতো বিক্রয় কেন্দ্রে উপস্থিত থাকেন এবং যথাযথভাবে সার বিতরণ করেন। ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে। কৃষকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে আমন চাষাবাদের জন্য সারের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। এই সময়ে সার না পেলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই তারা দ্রুত সার পাওয়ার জন্য ডিলার পয়েন্টগুলোতে ভিড় করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের আশ্বস্ত করেছেন যে, পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে সার দেওয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
