কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির হার বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। গত ৩ সেপ্টেম্বর অধিদপ্তরের শাখা-২-এর পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীনের সই করা এক চিঠিতে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এই নির্দেশনার আওতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জনবহুল স্থান, হাট-বাজার এবং পার্শ্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে লিফলেট বিতরণ, ব্যানার ও পোস্টার স্থাপন এবং মাইকিংয়ের মতো কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ডকুমেন্টারি ও টিভিসি প্রচারের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষার সুবিধা ও গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, দুই বছর মেয়াদি এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং এইচএসসি (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি) শিক্ষাক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পাশাপাশি প্রি-ভোকেশনাল (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি) এবং বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি কোর্সেও শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থী ভর্তির হার বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এই প্রচারণামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রচারণার ব্যয় নির্বাহের বিষয়ে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব বাজেটের নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কোড থেকে অথবা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রচলিত আর্থিক বিধি-বিধান মেনে এই খরচ বহন করা যাবে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এই উদ্যোগের পেছনে সাম্প্রতিক সময়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট রয়েছে। জানা গেছে, শিক্ষার্থীশূন্যতার কারণে দেশের ৭৩৩টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে অধিদপ্তর। এর আগে প্রথম ধাপে ৬২১টি এবং পরবর্তীতে আরও ১১২টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করা হয়েছিল। শোকজের জবাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলোর পাঠদানের অনুমতি স্থগিত করা হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে এই প্রতিষ্ঠানগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধের পথে হাঁটছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কারিগরি শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় কাঙ্ক্ষিত হারে শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে না।
বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও মফস্বল এলাকায় কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য এই প্রচার কার্যক্রমকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে হাট-বাজার ও জনবহুল স্থানে প্রচার চালানোর মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর আশা করছে, এই ব্যাপক প্রচারণার ফলে সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির হার বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এই নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষার প্রসারে এই ধরনের প্রচারণামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
