রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে অপহৃত সাত বছর বয়সী এক শিশুকে শরীয়তপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুথী আক্তার নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক এই আদেশ প্রদান করেন। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কাফরুলের পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকায় শিশুটি বাসার বাইরে খেলতে বের হয়েছিল। এরপর থেকে সে নিখোঁজ হয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালান। কোথাও সন্ধান না পাওয়ায় ওই দিনই কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। সাধারণ ডায়েরি করার পর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা করে।
ফুটেজ পর্যালোচনার সময় পুলিশ দেখতে পায় যে, এক নারী শিশুটির হাত ধরে জোরপূর্বক তাকে নিয়ে যাচ্ছেন। এই ফুটেজ পর্যালোচনার পর শিশুটির মা আমেনা বেগম কাফরুল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করে। শনিবার বিকেলে শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা এলাকায় পুলিশ অভিযান চালায়।
এই অভিযানে যুথী আক্তারকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে তার পরিবারের সাথে রয়েছে। অন্যদিকে, গ্রেফতারকৃত যুথী আক্তারকে রোববার আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে পুলিশ তাকে কারাগারে নিয়ে যায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অপহরণের কারণ এবং এর সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তদন্ত চলমান রয়েছে। শিশু অপহরণের মতো একটি সংবেদনশীল ঘটনায় পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করায় শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে অপরাধীকে শনাক্ত করা এবং পরবর্তীতে শরীয়তপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা পুলিশের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
বর্তমানে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশে গ্রেফতারকৃত নারী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং মামলার তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কাফরুল থানা পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার জন্য সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিশুটির পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ হলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের মধ্যে শিশু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া শিশুটি বর্তমানে সুস্থ আছে এবং তার পরিবারের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। গ্রেফতারকৃত নারীর বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত কার্যক্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।
