কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাটে স্ত্রীর চোখের সামনে পা পিছলে সাগরে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার ১৮ ঘণ্টা পর শামীম নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে এবং রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
নিহত শামীম ভোলা জেলার বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের একটি শিপিং কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন এবং বিয়ের এক বছর পর অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি কুতুবদিয়ায় যাচ্ছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে মগনামা জেটিঘাটে বোটের অপেক্ষায় থাকার সময় বোটে ওঠার জন্য সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হঠাৎ পা পিছলে তিনি সাগরের পানিতে পড়ে যান।
শামীমের স্ত্রী করিমা বেগম জানান, তার স্বামী সাঁতার জানতেন, কিন্তু পানিতে পড়ার পরপরই তিনি তলিয়ে যান। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। শনিবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা চালালেও ডুবুরি দলের অভাবে নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার অভিযানের পরবর্তী পর্যায়ে রোববার সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা উদ্ধার কাজ শুরু করার আড়াই ঘণ্টার মাথায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেটিঘাটের নিচ থেকে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার সঙ্গে থাকা এক জোড়া জুতা ও একটি মোবাইল ফোনও পাওয়া গেছে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাটের ইজারাদার নুরুল ইসলাম জানান, অসাবধানতাবশত পা পিছলে ওই যুবক পানিতে পড়ে যান। শামীমের স্ত্রী করিমা বেগম চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন এবং অসুস্থতার কারণে তিনি বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন।
এই দম্পতি বিয়ের পর থেকেই চট্টগ্রামে বসবাস করতেন। শামীমের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধার অভিযানের দীর্ঘসূত্রতার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত ডুবুরি দলের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে এবং জেটিঘাটে যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শামীমের মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে ১৮ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘটে।
