অনৈতিক ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির লালবাগ থানা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আজমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি জানানো হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তার বিরুদ্ধে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টু স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আলী আজম এখন থেকে লালবাগ থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে আর বহাল নেই।
তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো দলের গঠনতন্ত্র ও আদর্শের পরিপন্থী বলে গণ্য করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া সংগঠনের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। তাই দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আলী আজমের সঙ্গে দলের কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক সম্পর্ক আর অবশিষ্ট থাকল না।
দলের সব স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন তারা বহিষ্কৃত এই ব্যক্তির সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ না রাখেন। কোনো নেতাকর্মী যদি তার সঙ্গে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কোনো যোগাযোগ বজায় রাখেন, তবে তাদের বিরুদ্ধেও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যেকোনো সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আলী আজমের ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, এই বহিষ্কারাদেশের মাধ্যমে দলের ভেতরে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ যদি দলের আদর্শ ও নীতিমালার বাইরে কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন, তবে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। লালবাগ থানা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে এবং দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হওয়ার পর থেকে আলী আজম আর কোনোভাবেই দলের কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। দলের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও এই বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো বিভ্রান্তি এড়াতে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই বহিষ্কারের ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিএনপি তার নিজস্ব সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়েছে। দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বহিষ্কৃত নেতার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ না করা হলেও, সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিষয়টিই প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন যে, সংগঠনের স্বার্থে এবং দলীয় আদর্শ সমুন্নত রাখতে তারা যেকোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবেন না। এই বহিষ্কারাদেশের মাধ্যমে দলের ভেতরে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যে, ব্যক্তিগত কোনো কর্মকাণ্ডের দায় দল বহন করবে না।
