রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের অংশগ্রহণে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ। তিনি রাশিয়ার একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। রিয়াবকভ জানান, তিন দেশের অংশগ্রহণে বৈঠকের ধারণাটি জনপরিসরে আলোচিত হচ্ছে এবং এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই ধরনের কোনো বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি এখনো প্রাথমিক পর্যায়েও শুরু হয়নি। উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো বৈঠকের আলোচ্যসূচি এবং এর মাধ্যমে কী ধরনের ফলাফল প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের ফরম্যাটগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বিশেষ বার্তা প্রদান করা সম্ভব।
উদাহরণ হিসেবে তিনি আরআইসি বা আরআইসি (রাশিয়া-ভারত-চীন) ফরম্যাটের কথা উল্লেখ করেন। রিয়াবকভ আরও বলেন, রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের অংশগ্রহণে এখন পর্যন্ত কোনো ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই ধরনের ত্রিপক্ষীয় আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও, রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিষয়টি এখনো তাত্ত্বিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
আরআইসি বা আরআইসি হলো একটি অনানুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় কৌশলগত ফোরাম। ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে পশ্চিমা আধিপত্যের ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে রাশিয়া প্রথম এই ধারণাটি সামনে নিয়ে আসে। বিগত বছরগুলোতে এই ফরম্যাটে মন্ত্রী পর্যায়ে ২০টিরও বেশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল তিন দেশের মধ্যে পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
তবে এই ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে এই ত্রিপক্ষীয় ফোরামটি বিভিন্ন কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘর্ষের পর থেকে আরআইসি ফরম্যাটের কার্যক্রম কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বৈশ্বিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে যেকোনো ধরনের ত্রিপক্ষীয় সংলাপ বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে এ ধরনের বৈঠকের আয়োজন করা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যটি মূলত একটি কূটনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি সরাসরি কোনো সম্ভাবনা নাকচ না করলেও বাস্তব পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
তিন দেশের মধ্যকার সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা এবং বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে তাদের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে এই ধরনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই ধরনের আলোচনার প্রস্তাব বা সম্ভাবনা নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
আপাতত এটি কেবল একটি কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবেই টিকে আছে।
