নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ও মানবাধিকারকর্মী শাহাদাত রাসএল। গত ৫ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুর রাষ্ট্রীয় নৃত্যশালায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। ‘সাফল্য, নেতৃত্ব ও মানবাধিকারে অসামান্য অবদান উদযাপন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
শাহাদাত রাসএল তার সর্বশেষ প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ ‘দ্য হাফ ফিনিশড সিগারেট অ্যান্ড আনস্পোকেন অ্যাপোলজিস’-এর জন্য এই স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। এই বইটি মূলত মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে লেখা ১২টি গল্পের একটি সংকলন, যা অ্যামাজনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সম্মাননা পাওয়ার পর শাহাদাত রাসএল তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানান যে, যেকোনো সম্মাননা প্রাপ্তিই একজন সৃজনশীল মানুষের জন্য আনন্দের এবং কাজের ক্ষেত্রে বড় ধরনের উৎসাহব্যঞ্জক বিষয়।
তিনি বলেন, তার বইয়ের মূল ভাবনা এবং এতে থাকা মানবিক বার্তাকে আয়োজকরা যে গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করেছেন, তা তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের একটি বিষয়। এই সম্মাননা প্রাপ্তির মঞ্চে দাঁড়িয়েই তিনি এটি বাংলাদেশে জুলাই-আগস্ট মাসে নিহত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন। ‘ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ মূলত ভারত ও নেপালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মাননা অনুষ্ঠান।
এ বছর চতুর্থবারের মতো এই আয়োজনটি সম্পন্ন হলো। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্মাননা তুলে দেন নেপালের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী উপেন্দ্র যাদব। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালের সংসদ সদস্য জগত যোশী ও খেমরাজ কৈরালা। অনুষ্ঠানে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা অমল ভাগাতসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নেপালের ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত ও নৃত্যের মনোজ্ঞ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এবারের এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। শাহাদাত রাসএল একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি লেখক ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবেও কাজ করছেন। তার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে লেখা তার গল্পগ্রন্থটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমাদৃত হওয়ায় তিনি এই সম্মাননা পেয়েছেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা অসামান্য অবদান রাখছেন, তাদের উৎসাহিত করতেই এই পুরস্কারের প্রবর্তন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা শাহাদাত রাসএলের কাজের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে তার আরও সৃজনশীল কাজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আদান-প্রদান আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের এই অর্জন দেশের শিল্প ও সাহিত্য অঙ্গনে নতুন অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য আয়োজক কমিটি নেপালের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা গ্রহণ করেছে। কাঠমান্ডুর রাষ্ট্রীয় নৃত্যশালায় আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যা এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
শাহাদাত রাসএল তার এই অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এবং মানবাধিকারের পক্ষে তার অবস্থানকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।
