ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় রোববার দুপুরে একটি ছয় তলা ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কয়েকজন আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, দুপুর দেড়টার দিকে ভবনটি হঠাৎ ধসে পড়ে। ভবনটি মূলত একটি পেয়িং গেস্ট হোস্টেল হিসেবে ব্যবহৃত হতো এবং এতে ৭৫টি শয্যা ছিল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত হওয়ায় ভবনটিতে প্রচুর শিক্ষার্থী বসবাস করতেন। পুলিশ জানিয়েছে, ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরোনো এই ভবনটিতে একটি বেজমেন্ট ও পাঁচটি তলা ছিল।
ভবনটি ‘হোস্টেল ডেজ’ নামে পরিচিত ছিল এবং মূলত পুরুষ শিক্ষার্থীদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ঘটনার সময় ভবনটির বেসমেন্টে সংস্কার কাজ চলছিল বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ছুটির দিন হওয়ায় ভবনটির ভেতরে প্রায় ৫০ জনের মতো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকারী দল বা ভারী যন্ত্রপাতির জন্য অপেক্ষা না করে খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মানুষ উদ্ধারে নেমে পড়েন।
অনেক শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে বাঁচার জন্য আকুতি জানিয়ে কল করছেন বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে চাপা পড়া এক ব্যক্তিকে বের করতে স্থানীয়রা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। খবর পেয়ে দিল্লি পুলিশ, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস ও দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সমন্বিত টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
নিউ দিল্লির জয়েন্ট সিপি, সাউথ-ওয়েস্ট জেলার ডিসিপি এবং এডিশনাল ডিসিপি সরাসরি উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন। ঘটনাস্থলে ১২টি ফায়ার টেন্ডার, একটি এক্সকাভেটর এবং বড় বড় স্ল্যাব ও গার্ডার সরানোর জন্য ভারী যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে। জনতা সামলাতে এলাকায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাশের ভবনটি খালি করে নেওয়া হয়েছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ঘটনাটিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তারাঞ্জিত সিং সান্ধু সকল সংস্থাকে দ্রুত ও সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় বিধায়ক অনিল শর্মা ঘটনাস্থলে থেকে প্রথম দুজনের উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনে ব্যাপক দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ।
তিনি অভিযোগ করেন, মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অব দিল্লির ভবন নির্মাণ বিভাগে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের কারণে এসব পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কোনো সংস্কার অডিট হয় না, যার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। ভবনটির মালিক গুরুগ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
