সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ জন ধনীর তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। ফোর্বস কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৬ সালের সিঙ্গাপুরের ৫০ জন শীর্ষ ধনীর তালিকায় তার নাম আর নেই। গত কয়েক বছর ধরে তিনি ধারাবাহিকভাবে এই তালিকায় স্থান পেয়ে আসছিলেন। গত ২ সেপ্টেম্বর ফোর্বস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা প্রকাশ করে।
গত বছরের তালিকায় মুহাম্মদ আজিজ খান ৪৯তম অবস্থানে ছিলেন। এর আগের বছরগুলোতেও তিনি এই তালিকায় ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি ৪১তম অবস্থানে এবং ২০২৪ সালের তালিকায় ৪৩তম অবস্থানে ছিলেন। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, মুহাম্মদ আজিজ খানের সম্পদের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালের তালিকায় তার সম্পদের পরিমাণ ১১০ কোটি ডলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বর্তমানে তার বিলিয়নিয়ার প্রোফাইলে সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলার দেখানো হচ্ছে। ফোর্বসের প্রোফাইল অনুযায়ী, মুহাম্মদ আজিজ খান সিঙ্গাপুরের একজন নাগরিক এবং স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার সম্পদের প্রধান উৎস হলো জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। বাংলাদেশে সামিট গ্রুপের বিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্দর ব্যবস্থাপনা, ফাইবার অপটিকস এবং আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে।
এছাড়া জাপানের জেরা কোম্পানি সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের ২২ শতাংশ অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে। এদিকে, ২০২৬ সালের সিঙ্গাপুরের ৫০ জন শীর্ষ ধনীর তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছেন ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো স্যাভেরিন। তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ২৯০ কোটি ডলার। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন কুয়েক লেং বেং ও তার পরিবার।
তাদের সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৬১০ কোটি ডলার। এছাড়া ১ হাজার ৪৩০ কোটি ডলার সম্পদ নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন রবার্ট ও ফিলিপ এনজি। সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের প্রভাব ও সম্পদের পরিমাণ পর্যালোচনার ভিত্তিতে ফোর্বস প্রতি বছর এই তালিকা তৈরি করে থাকে। মুহাম্মদ আজিজ খান দীর্ঘদিন ধরে এই তালিকায় থাকলেও এবার সম্পদের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এবং তালিকার অন্যান্যদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ায় তিনি শীর্ষ ৫০ জনের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
সামিট গ্রুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রম মূলত বাংলাদেশ কেন্দ্রিক হলেও তিনি সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তার বাদ পড়ার বিষয়টি ব্যবসায়িক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তার সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি থাকায় তিনি এখনো বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় রয়েছেন। সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ধনীদের এই তালিকায় বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা স্থান পেয়ে থাকেন।
প্রযুক্তি, আবাসন, ব্যাংকিং এবং জ্বালানি খাতের ব্যবসায়ীরা সাধারণত এই তালিকার উপরের দিকে অবস্থান করেন। মুহাম্মদ আজিজ খানের বাদ পড়া এবং অন্যান্য ধনকুবেরদের অবস্থানের পরিবর্তনের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি চিত্র ফুটে উঠেছে। ফোর্বসের এই তালিকাটি বিশ্বজুড়ে ধনকুবেরদের সম্পদের পরিমাণ ও তাদের ব্যবসায়িক অবস্থানের পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
