রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে তিনদিনব্যাপী ১১তম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো-২০২৬ শুরু হতে যাচ্ছে। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত এই প্রদর্শনীটি ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এবং রেইনবো এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (রিমস) যৌথভাবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।
বাপার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রদর্শনীটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তিনদিনের এই আয়োজনে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি কারিগরি অধিবেশন, সেমিনার এবং ব্যবহারিক কার্যক্রম প্রতিদিন অনুষ্ঠিত হবে। এই খাতের শিল্প-উদ্যোক্তা, বিশেষজ্ঞ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এবারের আসরে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন। বাপার সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব হাছান জানিয়েছেন, এবারের প্রদর্শনীতে ২৭টি দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড অংশ নিচ্ছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, তিনদিনের এই প্রদর্শনীতে ২৪ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফিলিং, প্যাকেজিং, কোডিং ও মার্কিং, লেবেলিং, মান পরিদর্শন, গুদামজাতকরণ, কোল্ড চেইন এবং লজিস্টিকসের আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে। এবারের প্রদর্শনীতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অটোমেশন, মেশিন ভিশন, রোবোটিকস, স্মার্ট ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি এবং টেকসই প্যাকেজিং উপকরণ ও নকশা।
এছাড়া প্রদর্শনীতে চার হাজারের বেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতিভিত্তিক সমাধান উপস্থাপন করা হবে। এবারের প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইতালি, জাপান, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।
তিনদিনের এই আয়োজনে আঞ্চলিক সম্মেলন, সেমিনার ও ব্যবহারিক কার্যক্রমে শতাধিক বিশেষজ্ঞ বক্তা ও শিল্পনেতা অংশ নেবেন। মূল আয়োজনের পাশাপাশি একই ভেন্যুতে ‘ফুড ইনগ্রেডিয়েন্টস বাংলাদেশ এক্সপো-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। এই বিশেষ অংশে ফাংশনাল ফুড ও বেভারেজ, নিউট্রাসিউটিক্যালস, বিকল্প প্রোটিন, উদ্ভিদভিত্তিক ফর্মুলেশন এবং টেকসই খাদ্য উপকরণের ওপর আলোকপাত করা হবে।
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই প্রদর্শনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ, দর্শনার্থী নিবন্ধন এবং বিস্তারিত তথ্যের জন্য আয়োজকদের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা যোগাযোগ মাধ্যম অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই প্রদর্শনীটি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সাথে পরিচিত হওয়ার একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মানের এই আয়োজন বাংলাদেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
