রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার জানিয়েছেন যে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
রোববার ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানিকারকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। হিলি স্থলবন্দর পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর তিনি হিলি ডাক বাংলোয় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম মন্ডলসহ বন্দরের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। মনোজ কুমার তার বক্তব্যে বলেন যে দুই দেশের আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন যে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য প্রসারের ক্ষেত্রে উভয় দেশের সরকার অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।
বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন যে ভারতীয় রপ্তানিকারক সমিতির সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। বর্তমানে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১২২টি ট্রাক পণ্য নিয়ে চলাচল করে। তিনি জানান যে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এই ট্রাকের সংখ্যা ১২০ থেকে ১৫০টিতে উন্নীত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি এই উদ্যোগকে একটি ইতিবাচক চিন্তাভাবনা হিসেবে অভিহিত করেন। এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যের গতিশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এর আগে ভারত অভ্যন্তরে ব্যবসায়িক বিভিন্ন জটিলতার কারণে গত ৩১ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সমস্যার সমাধান হওয়ার পর পাঁচদিন বন্ধ থাকার পর শনিবার থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার হিলি বন্দর এলাকা সফর করলেন। তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন এবং বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন সহজতর করা এবং ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের ওপর জোর দেন।
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে মূলত বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করা হয়, যা দুই দেশের স্থানীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে ট্রাকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে বন্দরের কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে এবং বাণিজ্যের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। মনোজ কুমার ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সহজ ও উন্নত করার জন্য ভারতীয় হাইকমিশন সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
তিনি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হলে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক মহলে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।
