দেশের সব ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা সিএমএসএমই খাতের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। এই দাবি জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন।
রোববার ৬ সেপ্টেম্বর এই চিঠি পাঠানো হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত লাখ লাখ ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। এই ব্যবসায়ীরা বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
তবে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, দোকান ভাড়া বৃদ্ধি, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম সংকটের মুখে পড়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে ক্রেতার উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর ফলে অনেক ব্যবসায়ীর বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে কর্মচারী ছাঁটাই করছেন, আবার অনেকে ব্যবসার মূলধন ভেঙে দৈনন্দিন খরচ মেটাচ্ছেন। লোকসান সামলাতে না পেরে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন। বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্পসুদের ঋণ, পুনঃঅর্থায়ন, প্রণোদনা ও কার্যকরী মূলধন সহায়তার ব্যবস্থা থাকলেও অনেক ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ী এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিজস্ব পুঁজি বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অভ্যন্তরীণ বাজারব্যবস্থা সচল রাখতে ভূমিকা রাখছেন। তাই অন্যান্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার মতো তাদেরও সরকারি সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন। এ কারণে সব ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীকে সিএমএসএমই খাতের অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্পসুদের ঋণ, পুনঃঅর্থায়ন ও প্রণোদনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংগঠনটি আট দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সহজ শর্তে স্বল্পসুদের ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ এবং কার্যকরী মূলধনের ব্যবস্থা করা, সরকারি সিএমএসএমই ঋণ ও আর্থিক সহায়তা দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া এবং ব্যাংক ঋণপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করা। এছাড়া বিভিন্ন মার্কেটে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও অবৈধ সার্ভিস চার্জ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি চালুর দাবিও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা দেখা দিলে এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
এটি কর্মসংস্থান, ব্যবসায়ীদের পরিবার, সরবরাহব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিদিন দোকান খুলে ক্রেতার অপেক্ষায় থাকলেও দিন শেষে দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন মেটানোর মতো পর্যাপ্ত বিক্রি করতে পারছেন না। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ক্ষুদ্র ব্যবসার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলে সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
