ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হতে যাচ্ছে। শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির রোববার সচিবালয়ে ইইউর রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশনসহ ২৭টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর এই তথ্য জানান। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগে ইইউর সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সম্মতি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে শুরু হবে।
এরপর দুই পক্ষের কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা ও যোগাযোগ শুরু হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ইইউর সঙ্গে এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে বাংলাদেশের পণ্যের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পথে যেসব বাধা রয়েছে, তার বেশির ভাগই সমাধানের পথে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ করে ইইউর পক্ষ থেকে উত্থাপিত নন-ট্যারিফ বাধাগুলো দূর করতে সরকার কাজ করছে। মন্ত্রী জানান, ইইউর উত্থাপিত ৬১টি নন-ট্যারিফ বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান ইতিমধ্যে করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ইইউর সঙ্গে এফটিএ ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে অভিন্ন স্বার্থের জায়গাগুলো খুঁজে বের করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার জানান, বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের পর ইউরোপীয় কমিশন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সদস্য দেশগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে চলতি সপ্তাহ থেকেই যৌথ কারিগরি আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাইকেল মিলার আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে এফটিএ হলে তা কেবল শুল্ক কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
এই চুক্তির আওতায় ই-কমার্স, মেধাস্বত্বের সুরক্ষা, মানবাধিকারসহ সীমান্তের বাইরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইইউ সাধারণত তাদের অংশীদারদের সঙ্গে উচ্চাভিলাষী বাণিজ্য চুক্তি করে থাকে এবং সম্ভাব্য এফটিএ নিয়েও বিস্তৃত পরিসরে আলোচনা হবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, উভয় পক্ষের অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করার জন্য একটি স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ ও ইইউ উভয় পক্ষই লাভবান হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর অগ্রগতি নিয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সব সময় জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনা করে আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
জ্বালানি ও খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, পণ্যের গুণগত মান এবং অপচয়ের হার বিশ্লেষণ করে সরকারি ক্রয় কমিটি সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রভাব দ্বারা পরিচালিত হয় না বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণই সব সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
এই চুক্তির মাধ্যমে দুই পক্ষের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
